যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার অপেক্ষায় দেশের সক্ষমতা ও আত্মমর্যাদার আরেক প্রতীক চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল বা সুড়ঙ্গপথ। দেশের সড়ক যোগাযোগের ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি মাইলফলক। আগামীকাল এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত এই টানেল গাড়ীতে চড়ে পাড়ি দেয়া যাবে মাত্র তিন মিনিটেই।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার ও এক ঘণ্টা সময়ও কমিয়ে আনছে টানেলটি। দুটি টিউবের চার লেনের সড়কের মাধ্যমে নদীর তলদেশ দিয়ে পাঁচ মিনিটে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে যাওয়া যাবে আনোয়ারায়।
পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে উদ্বোধনের পর আনোয়ারা প্রান্তে জনসমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। আর আগামী রোববার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে সর্বসাধারণের যান চলাচলের জন্য টানেলটি খুলে দেওয়া হবে।
দেশের বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ করবে প্রকল্পটি। চট্টগ্রামের নতুন শহর গড়ে উঠবে নদীর অপর প্রান্তেও। চট্টগ্রাম নগরীর অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক আকার হবে দ্বিগুণ।
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রকল্পের অ্যালাইনমেন্ট পতেঙ্গা প্রান্তে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে কর্ণফুলী নদীর ২ কিলোমিটার ভাটিতে। ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার টানেল যুক্ত করবে কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা নেভাল একাডেমি আর অপর প্রান্তের চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা (সিইউএফএল)।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আনোয়ারা প্রান্তে ব্রিজ ভায়াডাক্টের দৈর্ঘ্য ৭২৭ মিটার। অ্যাপ্রোচ সড়কের দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার। টোল প্লাজার দৈর্ঘ্য ৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটার। এ ছাড়া আনোয়ারা প্রান্তে সংযোগ সড়কের সঙ্গে ৭২৭ মিটার ভায়াডাক্ট (উড়াল সড়ক) রয়েছে।
টানেলে আন্ডার পাসের সংখ্যা আনোয়ারা প্রান্তে পাঁচটি ও পতেঙ্গা প্রান্তে একটি আর কালভার্টের সংখ্যা ১২টি। এ ছাড়া সার্ভিস এলাকায় ৩০টি বাংলো, একটি ভিআইপি বাংলোসহ মোটেল মেস, হেলথ সেন্টার, কনভেনশন সেন্টার, জাদুঘর, সুইমিংপুল, ব্রিজ, মসজিদ ও অভ্যন্তরীণ রাস্তা থাকবে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টানেলের দুপাশে দুটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, পুলিশের ক্যাম্প নির্মাণ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক কার্যক্রম এখনও বাকি। এ ছাড়া নিরাপত্তার জন্য স্ক্যান মেশিন বসানো হচ্ছে।
সেতু বিভাগ থেকে জানা যায়, দুই টিউব সংবলিত মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিলোমিটার। এ দুই টিউব তিনটি সংযোগ পথের (ক্রস প্যাসেজ) মাধ্যমে যুক্ত থাকবে। বিপদের সময় অন্য টিউবে গমনের জন্য এ ক্রস প্যাসেজগুলো ব্যবহার হবে। টানেল টিউবের দৈর্ঘ্য ২.৪৫ কিলোমিটার ও ভেতরের ব্যাস ১০.৮০ মিটার।
প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার মূল ও সব মিলিয়ে সাড়ে ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই টানেল এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত হবে। এই টানেল দিয়ে ২২ টন পর্যন্ত ওজনের গাড়ি চলতে পারবে। যাত্রীবাহী গাড়ীকে ২০০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ও পণ্যবাহী গাড়ীকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত টোল দিতে হবে।
দুই টিউব বিশিষ্ট চার লেনের এই টানেলের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যার ৬০ শতাংশ চীন ও বাকী অংশ বহন করছে বাংলাদেশ।