পূর্ণিমার সময় যখন চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের অবস্থানে আসে, তখন তাকে বলা হয় সুপারমুন। চাঁদের এই সবচেয়ে কাছের অবস্থানকে বলা হয় পেরিজি। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি দেখা যাবে পূর্ণ উলফ সুপারমুন। এদিন চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬২,৩১২ কিলোমিটার দূরে থাকবে।

চাঁদ পৃথিবী থেকে গড় দূরত্বের চেয়ে কাছাকাছি চলে এলে ‘সুপারমুন’ ঘটে। ফলে এ সময় চাঁদকে সাধারণ সময়ের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।

শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ চাঁদ তার পূর্ণতম অবস্থায় বা পূর্ণিমায় পৌঁছাবে। তবে এর আগের রাত থেকেই আকাশজুড়ে চাঁদটিকে বড় ও উজ্জ্বল গোলকের মতো দেখাবে।

জানুয়ারির এই পূর্ণিমাকে মাঝেমধ্যে ‘উলফ মুন’, ‘কোল্ড মুন’ বা ‘হার্ড মুন’ও বলা হয়। এসব নাম ঐতিহ্যবাহী হলেও এর অনেকগুলো ইদানীংকালেই বেশি পরিচিতি পেয়েছে।

অন্যান্য মহাজাগতিক দৃশ্যের মতো সুপারমুন দেখার জন্য বিশেষ কোনো যন্ত্র বা প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই, বরং অন্যান্য সূক্ষ্ম মহাজাগতিক ঘটনার তুলনায় কোনো জনবহুল বা ব্যস্ত জায়গা থেকে এ চাঁদ দেখার বিষয়টি বরং ভালো হতে পারে।

দিগন্তরেখায় থাকা বিভিন্ন বস্তু বা ভবনের পাশে চাঁদকে দেখলে এর বিশালতা ও নাটকীয় রূপ আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

এ বছরের অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় আকাশের অনেক উঁচুতে অবস্থান করবে জানুয়ারির এ চাঁদ। ফলে চাঁদটিকে আরও দীর্ঘক্ষণ ও খুব সহজেই দেখা যাবে।

তবে চাঁদটি দেখতে কিছুটা কম রোমাঞ্চকর মনে হতে পারে। কারণ চাঁদ যখন আকাশের অনেক উপরে থাকে তখন পৃথিবীর কোনো বস্তুর সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ থাকে না বলে একে ততটা বিশাল দেখায় না।

জানুয়ারির এ সুপারমুনটি ‘কোয়াড্রান্টিড’ উল্কাবৃষ্টি হওয়ার সময়ই দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে উল্কাবৃষ্টি দেখা কিছুটা কঠিন হতে পারে। কারণ পূর্ণিমার চাঁদের তীব্র উজ্জ্বলতার কারণে আকাশে উল্কাদের ছুটে চলার ক্ষীণ আলো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

সুপারমুনের সময় সাধারণ চাঁদের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল হয়। এ সময় চাঁদের আলো পুরো আকাশকে আলোকিত করে রাখবে। ফলে ছোট বা আবছা বিভিন্ন উল্কা চাঁদের আলোয় ঢাকা পড়ে যাবে।