সয়াবিন তেল যেন সোনার হরিণ। একদিকে বাজারে পাওয়া দুষ্কর। অন্যদিকে আজ থেকে সয়াবিনের যে নতুন বর্ধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে, এই দাম বৃদ্ধির হার সোনার দাম বাড়ার হারকেও হার মানিয়েছে। নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সব চিন্তা কেড়ে নিয়েছে ভোজ্যতেলগুলোর মধ্যে সবচে বেশি ব্যবহৃত সয়াবিন।
সোনা যেমন চকচকে, ভোজ্যতেলের বোতলগুলোও তেমন চকচকে। তবু তেল সোনা নয়। কিন্তু সোনার চেয়েও অনেক বেশি হারে দাম বেড়েছে সয়াবিন ও পাম তেলের। দেশে ঈদ আনন্দের মেজাজের মধ্যেই প্রথম কর্মদিবস বৃহস্পতিবারে সরকার সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বড়িয়েছে, যা শুক্রবারের বাজারে কার্র্যকর হয়েছে।
শুক্রবার বাজারে গিয়ে সবচে বেশি ব্যবহৃত সয়াবিন তেলের দেখা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। পাইকারি, খুচরা সব বাজারেই সয়াবিন তেল খুঁজতে খুঁজতে ক্রেতাদের তেলে পিছলে পড়ার বদলে চটি ক্ষয় হয়ে যাবার যোগাঢ় হয়। হঠাৎ কোন দোকানে সামান্য কিছু সয়াবিন তেল মেলে, কিন্তু অপ্রতুল। সেসব দোকানীরা আবার তেল বিক্রির জন্য নানা শর্ত জুড়ে দেয় ক্রেতাদেরকে। তা নিয়ে বচসা বাধে, তিক্ততায়ও গড়ায় ঘটনা।
ঈদের আগে থেকেই বাজারে দাম বাড়িয়ে দেয়া সয়াবিন তেল দুষ্প্রাপ্যও হয়ে ওঠে। দেশবাসী মুক্ত পরিবেশে যখন ঈদ আনন্দের মেজাজে, তখন সয়াবিন ও পাম তেলের যে হারে দাম বাড়ানো হয়েছে সেই হারে সোনার দামও বাড়তে দেখা যায় না। আজ থেকে সয়াবিন ও পাম তেলের যে নতুন বর্ধিত দাম কার্যকর হয়েছে তাতে প্রতি লিটারে সয়াবিনের দাম বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ, আর পাম তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। দেশে শেষ দুবার স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির যে হার দেখা যায় তাতে এপ্রিলে বেড়েছে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ হারে, তার আগে মার্চে বেড়েছে এক দশমিক ৩৪ শতাংশ হারে। ভোজ্য তেলের ক্রেতাদের মেজাজ তাই এখন তেলের মত মসৃন নয়, গ্রীষ্মের খরতাপের মত।
তেল বিক্রেতাদের মেজাজও ঠিক রাখা দুষ্কর হয়ে পড়ছে। কারণ, কেন তেল নেই বাজারে, কেন দাম এত বেড়েছে, কেন তেল কেনার জন্য এতো হয়রানি? কবে এই পরিস্থিতি পাল্টাবে? এমন অসংখ্য প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যার কোনটারই উত্তর নেই তাদের কাছে।