ভারতে বিমান বিধ্বস্তের ৫৬ বছর পর চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালে এএন-১২ মডেলের একটি বিমান হিমাচল প্রদেশের রোহতাং পাসে বিধ্বস্ত হয়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সেদিন এন-১২ নামের বিমানটি চণ্ডীগড় ছাড়ার অল্প সময় পরই নিখোঁজ হয়। রোটাং পাসের কাছে বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়ে বিধ্বস্ত হয় এটি। উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ ও নিহতদের দেহাবশেষ হারিয়ে যায় বরফের রাজ্যে।
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের দোগরা স্কাউট নামের ইউনিটের নেতৃত্বে এই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান বৃহত্তর চন্দ্র ভাগা মাউন্টেন এক্সপিডিশনের অংশ। এতে সহায়তা করছেন তিরাঙ্গা মাউন্টেন রেসকিউর প্রতিনিধিরা।
অটল বিহারি বাজপেয়ী ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিংয়ের পর্বতারোহীরা প্রথম বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন ২০০৩ সালে। পরবর্তী বছরগুলোতে ভারতীয় সেনাবাহিনী বেশ কয়েকটি অভিযান চালায়। ২০০৫, ২০০৬, ২০১৩ এবং ২০১৯ সালের অভিযানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন দোগরা স্কাউটের সদস্যরা।
বৈরী আবহাওয়া এবং জায়গাটির দুর্গমতার কারণে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কেবল পাঁচটি ‘মৃতদেহ’ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। গত রোববার চন্দ্র ভাগা মাউন্টেন এক্সপিডিশন আরও চারটি ‘মরদেহ’ উদ্ধার করে। এতে দুর্ঘটনায় নিহতদের উদ্ধার করা মৃতদেহের সংখ্যা গিয়ে পৌঁছাল ৯-এ।
নতুন উদ্ধার হওয়া চার দেহাবশেষের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা হলেন—সিপাহি মালখান সিং ও সিপাহি নারায়ণ সিং এবং ক্রাফটসম্যান থমাস চেরিয়ান। মৃতদেহগুলো ‘প্রায় অবিকৃত অবস্থায়’ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
থমাস চেরিয়ান কেরালার পাঠানমথিট্টা জেলার এলানথুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার বোন বলেন, ‘আমরা এই পরিস্থিতি কীভাবে ব্যাখ্যা করব জানি না। আমরা একইসঙ্গে খুশি এবং দুঃখিত।’