বিশ্বকাপ খেলতে আজ বাংলাদেশ উড়াল দিয়েছে ভারতে। তামিম ইকবাল নেতৃত্ব ছাড়ার পর সাকিব আল হাসানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে অধিনায়কত্বের ভার। আর আজই জানা গেল, বিশ্বকাপের পর একদিনও তিনি অধিনায়কত্ব করবেন না। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) টি-স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর একদিনও অধিনায়ক থাকতে চান না সাকিব।

কেন অধিনায়কত্ব করতে চান না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলছেন, ক্যারিয়ারের শেষদিকের এই সময়টা কাটাতে চান উপভোগ করেই। সঙ্গে জানান, বিশ্বকাপের পর আর একদিনও অধিনায়ক থাকতে চান না।

বিসিবিকে কোনো শর্ত দিয়ে অধিনায়কত্ব নিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন,

‘প্রথমত আমি কোনো শর্তই দেইনি। যে পরিস্থিতিতে অধিনায়কত্ব আমি নিয়েছি, সবচেয়ে সেরা ছিল না নেওয়া। করার মতো সবচেয়ে সহজ কাজ। পাপন ভাইকেও শুরুতে বলেছি এবার আর করবো না। এখন পরিস্থিতি ঠিক নাই। এই পরিস্থিতিতে আমার করার দরকারই নাই। কারণ হচ্ছে আমার এই বয়সে এসে, এই অবস্থায় এসে এই চাপ নেওয়ার কোনো কারণই নাই। আমি হাসতে চাই, উপভোগ করতে চাই খেলা, বাংলাদেশের হয়ে পারফর্ম করতে চাই। এবং ভালোভাবে শেষ কিছুদিন পাড় করতে চাই। এটা হচ্ছে আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছে। ’

‘এরপর সে তার মতো বর্ণনা করলো। এখন পরিস্থিতি কী, কী হতে পারে। অন্য কেউ করলে কে করবে। সেটা হলে কী রেজাল্ট আসতে পারে। একটা অধিনায়কের কাজ তো আসলে দলকে মাঠের ভেতরে চালানো না। মাঠের বাইরে যে কাজ, সেগুলো করে একজন অধিনায়কের লাস্ট স্টেজ হচ্ছে মাঠ চালানো। বোর্ডের, কোচ, টিম ম্যানেজম্যান্টের মনে হয়েছে আমি ছাড়া এটা এখন সম্ভব না। আমি বললাম ঠিক আছে। ’

এশিয়া কাপের স্কোয়াড নিয়ে সাকিব বলেন, ‘এরপর আসি টিম লিস্ট, যখন আমাকে নামগুলো পাঠানো হয়েছে, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভাইয়ের নাম ছিল না। হ্যাঁ, আমি কী জিজ্ঞেস করেছি কি না, না। কারণ ওই পরিস্থিতিই নাই জিজ্ঞেস করার মতো। হঠাৎ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে কেউ ছেড়ে দিতে পারে এটা আমার জানা ছিল না,এরকম কেউ নিতে পারে সেটিও আমার জানা ছিল না। হয়তো অন্য কাউরে দিলে নিতেই হতো। কিন্তু আমার কাছে ওই বিকল্প ছিল না নেওয়ার। একদমই জোর করে যদি আমি বলতাম নিবোই না। যেহেতু সবাই বলছে দলের জন্য দরকার, তোমার জন দরকার নাই। ঠিক একটা কারণেই নিয়েছি। ’

লম্বা সময় অধিনায়কত্ব করা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘একটা শর্তও দেইনি। কেউ যদি বলে আমি একটা শর্ত দিয়েছি যে আমি এটা চাই, এরকম হলে ভালো হতো। কেউ বলতে পারবে না। একটা শর্তও না।  যখন আমি এগুলো নিউজে দেখেছি, শুধু হেসেছি।  কখনো বলিনি। এখনকার যে বাস্তব পরিস্থিতি আছে আমি এই বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমি অধিনায়কত্ব করবো। একদিন পরেও না। ’

‘আর কোনে কারণ নেই। বেস্ট হয় যদি অধিনায়ক না থাকি। অধিনায়কত্ব কি আমার কোনো ভেল্যু এড করতেছে ক্যারিয়ারে এই স্টেজে এসে? আমি তো মনে করি না। ’