টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের প্রথম দিনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে নামিবিয়া বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছিল। দ্বিতীয় দিনে এসে অঘটনের জন্ম দিলো স্কটল্যান্ড।দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪২ রানের বড় ব্যবধানে হারাল স্কটিশরা। উইন্ডিজের বিপক্ষে এটিই স্কটল্যান্ডের প্রথম জয়। স্কটিশদের দেওয়া ১৬১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে যায় ১১৮ রানে।
ক্যারিবীয়দের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৬১ রানের। কাইল মায়ার্স শুরুটা ভালোই করেছিলেন (১৩ বলে ২০)। এভিন লুইসও সেট হয়ে গিয়েছিলেন (১৩ বলে ১৪)। পাওয়ার প্লের এক বল বাকি থাকতে ১ উইকেটেই ৫৩ রান তুলে ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সেখান থেকে স্কটিশ বোলারদের তোপে আর ২৬ রান তুলতে আরও ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ক্যারিবীয়রা। দলের এই বিপদের মুখে একটা প্রান্ত ধরে ছিলেন জেসন হোল্ডার।
কিন্তু হোল্ডারের ৩৩ বলে ৩৮ রানের ইনিংসটা দলের পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। ১৯তম ওভারে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন এই অলরাউন্ডার। ১৮.৩ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ১১৮ রানে।
স্কটিশ বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মার্ক ওয়াট। ১২ রানে ৩টি উইকেট নেন তিনি। দুটি করে উইকেট নেন ব্র্যাড হোয়েল আর মাইকেল লিস্ক।
এর আগে ওপেনার জর্জ মুনসের অপরাজিত হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ৫ উইকেটে ১৬০ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় স্কটল্যান্ড।
হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক নিকোলাস পুরান। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল স্কটল্যান্ড।
বিশ্বকাপে ফের অঘটন, এবার স্কটল্যান্ডে ধরাশায়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ইনিংসের ৫.৩ ওভার যেতেই ঝমঝমিয়ে নামে বৃষ্টি। স্কটল্যান্ডের বোর্ডে তখন বিনা উইকেটেই ৫২ রান। বৃষ্টির পর ফের খেলা শুরু হলে লড়াইয়ে ফেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
১৭ বলে ২০ রান করা ওপেনার মাইকেল জোনসকে বোল্ড করেন হোল্ডার। ভাঙে জর্জ মুনসের সঙ্গে ৩৮ বলে ৫৫ রানের ঝোড়ো জুটি। এরপর ম্যাথিউ ক্রস আর রিচি বেরিংটনকে ইনিংস বড় করতে দেয়নি ক্যারিবীয়রা।
ম্যাথিউ ক্রস ৩ করে হন হোল্ডারের দ্বিতীয় শিকার, ১৪ বলে ১৬ করে আলজেরি জোসেফকে উইকেট দেন স্কটিশ অধিনায়ক বেরিংটন।
চতুর্থ উইকেটে জর্জ মুনসে আর কলাম ম্যাকলয়েড ২০ বলে যোগ করেন ৩১ রান। ম্যাকলয়েড মারমুখী ছিলেন (১৪ বলে ২৩)। ১৬তম ওভারে তাকে ফিরিয়ে জুটিটি ভাঙেন ওডিয়েন স্মিথ।
তবে পরের ওভারেই ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নেন ওপেনার মুনসে। ৪৩ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের অষ্টম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন। ৫৩ বলে ৯ বাউন্ডারিতে করেন ৬৬ রান। ১১ বলে অপরাজিত ১৬ আসে ক্রিস গ্রেভসের ব্যাট থেকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার আর আলজেরি জোসেফ নেন দুটি করে উইকেট।