ওয়ানডে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে রান তাড়ার নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার ভারতের হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৩৪৪ রান করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে ব্যাটে নেমে ১০ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছায় পাকিস্তান।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড এটাই। এর আগে ইংল্যান্ডের ৩২৯ রান তাড়া করে জিতেছিল আয়ারল্যান্ড। পরের রান তাড়া করে জেতার দুটি (৩২২ রান ও ৩২২ রান) রেকর্ড ছিল বাংলাদেশের।

এর আগে  ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। শুরুতে ওপেনার কুশল পেরেরার উইকেট হারালেও পরে পাথুম নিসাঙ্কা এবং কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে চড়ে আগাতে থাকে লঙ্কানদের ইনিংস। নিসাঙ্কা ফিফটি হাঁকিয়ে সাজঘরে ফিরে গেলেও কুশলকে ফেরানো যায়নি। তার মারমুখি ব্যাটিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছিলেন পাক বোলাররা।

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকান কুশল। পরে তার সাথে যোগ দেন সাদিরা সামারাবিক্রমাও। দুজনে মিলে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন দলের ইনিংস। ৭৭ বলে ১২২ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে আউট হন কুশল। পরে লঙ্কানদের ইনিংসকে টেনেছেন সাদিরা। সময়ের সাথে সাথে ব্যাটের ধার বাড়িয়েছেন তিনি, রান তুলেছেন দ্রুত গতিতে। শেষে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনিও। ইনিংসের একদম শেষ দিকে আউট হওয়ার আগে ৮৯ বলে ১০৮ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন সাদিরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৪৪ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা।

পাকিস্তানের হয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন হাসান আলী। এছাড়া ২ উইকেট নেন হারিস রউফ। ১টি করে উইকেট নেন শাদাব খান, শাহীন শাহ আফ্রিদি এবং মোহাম্মদ নওয়াজ।

বড় স্কোর তাড়া করতে গেলে ভালো শুরু গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্ত পাকিস্তান শুরুর দিকেই হারিয়ে ফেলেছিল ২ উইকেট। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গেল ম্যাচেও ওপেনার ইমাম উল হক বাউন্সারে আউট হয়েছিলেন। এবারও বাউন্সারই তার সর্বনাশ ডেকে আনল। দিলশান মাদুশাঙ্কার বলে ইমাম ১২ রানে আউট হওয়ার পর পাকিস্তানের মূল ভরসা বাবরও ফিরে যান দ্রুত, মাদুশাঙ্কার বলেই। ১০ রানে অধিনায়ক আউট হওয়ার পর শফিক ও রিজওয়ান ইনিংস মেরামতে মনোযোগ দেন।

স্ট্রাইক বদলের পাশাপাশি বাউন্ডারি আদায়েও সজাগ ছিলেন দুজনেই। ১৯তম ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ শতরান ছাড়িয়ে যায়। আগে-পরে দুজনেই ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন। এরপরে দুজনেই রানের চাকাও সমান গতিতে ঘোরাতে থাকেন।

৫৮ বলে ফিফটি করে পরের ৩৯ বলে ৫০ রান এনে সেঞ্চুরি পূরণ ৯৭ বলে। ফখর জামানের জায়গায় একাদশে ঢোকা শফিক ও রিজওয়ান দুজনেরই ইনিংস চলেছে সমানতালে, একই সুরে। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি পাওয়া প্রথম পাকিস্তানি ব্যাটার হয়ে যান শফিক। পয়েন্টে বদলি ফিল্ডার দুশান হেমন্তের দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে তার ইনিংস থেমে যায়। ১০৩ বলে ১১৩ রানের ঝলমলে ইনিংসে তিনি মারেন ১০টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা।

১৭৬ রানের জুটি ভেঙে যাওয়ার পর অভিজ্ঞ রিজওয়ানের ওপর দায়িত্ব বেড়ে যায়। এ ম্যাচে তার কাছে চাহিদা ছিল আরও বেশিকিছুর! সে পথেই এগিয়ে যেতে থাকা রিজওয়ানকে ভোগান্তিতে ফেলে দিয়েছিল তার শরীর। তবে দমে না গিয়ে ক্র্যাম্পের সঙ্গে লড়ে উল্টো লঙ্কানদেরই ভোগান্তি বাড়ান শুধু।

৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১২১ বলে ১৩১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন রিজওয়ান। ৩১ রান করে সৌদ শাকিল ও ইফতিখার আহমেদ এসে ১০ বলে ২২ রানের অপরাজিত ক্যামিও খেলে যোগ্য সঙ্গ দেন। হারের স্বাদ পাওয়া শ্রীলঙ্কার আফসোসের জায়গা থাকবে এখানেই, মিডল অর্ডারে আরও অবদানের অভাব। নইলে তাদের পুঁজি চারশ পেরোনোর জোরালো অবস্থা ছিল।