আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতসহ সম্পদ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, করোনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উন্নত বিশ্বেও দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে, আমাদের দেশে যেন তা না হয় সেজন্য সকলকে সচেতন হওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আজ (মঙ্গলবার) দু’টি আলাদা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণের জন্য রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত মেয়র আরফানুল হক রিফাতকে শপথ পাঠ করান। কাউন্সিলরদের শপথ পাঠ করান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, দেশের মানুষের সার্বিক অধিকার নিশ্চিত করতেই সরকার কাজ করছে। এসময় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাবার নির্দেশ দেন তিনি।
সরকারের পরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণে দেশ অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট স্বাবলম্বী হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। সরকার ভুর্তকি দিয়ে সব কিছু সচল রাখার চেষ্টা করছে। তবে জনগণকেও সম্পদ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে পরিবহনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আগের মতো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। শুধু আমাদের দেশে না প্রত্যেকটা দেশেই এখন এসব জিনিসের ঘাটতি। এ সমস্যাটা দেখা দিয়েছে। সেখানে আমরা যদি একটু সাশ্রয় করে চলি, মিতব্যয়ী হই এবং নিজেরা নিজেদের সঞ্চয়টা বাড়াতে পারি তাহলে যেকোনো সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে। অর্থাৎ প্রতিটি পরিবারেই যদি সঞ্চয়মুখী হয় যে আমরা নিজেরা কিছু করবো।
তিনি বলেন, অনেক উন্নত দেশগুলোতে কিন্তু দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের দেশের যাতে সে পরিস্থিতিতে পড়তে না হয় তাই এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। কোনো জলাধার যেন খালি না থাকে। যার যেখানে যতটুকু জায়গা আছে, প্রতিষ্ঠান ভিত্তিকও যেখানে যতটুকু খালি জায়গা যে যা পারবেন কিছু উৎপাদন করবেন। উৎপাদন করে অন্তত নিজেদের খাদ্যটা নিজেরা জোগাড় করার চেষ্টা করা যাতে বাজারের ওপর চাপ না পড়ে। উদ্বৃত্তটা বিক্রি করে যাতে লাভবান হতে পারেন সেই ব্যবস্থা সবাইকে নিতে হবে।
এখন আবার একটু পাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সেইসঙ্গে সঙ্গে আমরা টিকা দিচ্ছি। টিকা দেওয়ার সঙ্গে বুস্টার ডোজটাও নিতে হবে। অনেকেই বুস্টার ডোজ নিচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান নিয়েছে কিন্তু সাধারণ জনগণ একটু পিছিয়ে থাকে। সেই ব্যাপারেও আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবো, যাতে প্রত্যেকে বুস্টার ডোজটা নেয়। যাতে এটা পাদুর্ভাব আর বাড়তে না পারে।