বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে কিছু দেশের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, যারা তাদের পদলেহন করবে এমন সরকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয় সেটা চায় কিছু মোড়ল দেশ।  আজ (বুধবার) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী কয়েকটি দেশ আছে, তারা খালি গণতন্ত্র খুঁজে বেড়ায়। অথচ এদেশে আইন করে আমরা স্বাধীন নির্বাচন কমিশন করেছি। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিয়েছে আওয়ামী লীগ, আজ আমাদের শুনতে হয় ভোটের অধিকারের কথা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে ভৌগলিক অবস্থানের কারণে কিছু মোড়ল দেশ এখানে এমন সরকার চায় যারা তাদের পদলেহন করে। এরা যাদের বন্ধু হয় তাদের আর শত্রু লাগে না। ইউক্রেন বন্ধু হয়েছিল তাদের আজ কী অবস্থা।

শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ আমার অবাক লাগে যখন বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা শুনি। যাদের জন্ম হয়েছে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। যাদের যাত্রা শুরু হয়েছে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে, তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের কিছু প্রভু আছে, তারা একই সঙ্গে সুর মিলায় বাংলাদেশে নাকি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। তাদের কাছে প্রশ্ন, জিয়ার হ্যাঁ-না ভোট, খালেদার ১৫ ফেব্রুয়ারি মার্কা নির্বাচনের সময় গণতন্ত্র কোথায় ছিল? জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার নির্বাচন তো আমরা দেখেছি। আজ যারা বাংলাদেশে টর্চলাইট দিয়ে নির্বাচন খুঁজছেন, তখন তারা কোথায় ছিলেন? অন্ধ ছিলেন? তখন তো তাদের সোচ্চার দেখিনি!

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রক্ত দিয়ে এদেশের গণতন্ত্র এনেছে। আমাদের হাতে গণতন্ত্র সুরক্ষিত না। সুরক্ষিত মিলিটারি ডিক্টেটরদের দোসরদের হাতে? যারা শ্রমিকের অধিকার কেড়ে নেয়, কৃষকদের গুলি করে হত্যা করে, তারা এখন গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী? কিছু বুদ্ধিজীবী আছে, যারা বুদ্ধি বেচে জীবিকা নির্বাহ করে, তারাও তাদের পক্ষে কথা বলে।

তিনি আরও বলেন, ১৫ আগস্ট তো অনেকেরই জন্মদিন। কেউ কি পালন করে? কত বড় অমানুষ হলে জাতি যেদিন শোক দিবস পালন করে সেদিন সে জন্মদিন পালন করে! কতটা অমানবিক হলে শোক দিবসকে জন্মদিন বানিয়ে উৎসব করতে পারে। জিয়ার হাতে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী হত্যা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের পকেট থেকে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে তৈরি করা দল বিএনপি। তারা জনগণের ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল। ভোট নিয়ে প্রহসন করেছে। এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া নির্বিচারে হাজার হাজার সেনা অফিসার হত্যা করেছে। তাদের লাশও গুম করে। নিহতদের পরিবার এখনও লাশ খুঁজে বেড়ায়। কেঁদে ফেরে তাদের স্বজনদের খোঁজে। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। যেভাবে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়, সেভাবেই জিয়াকেও খুন করা হয়। তার লাশেরও খবর নাই।

শেখ হাসিনা বলেন, জেনারেল এরশাদ বলে গেছেন জিয়ার লাশ পাওয়া যায়নি। জিয়ার লাশ খালেদা, তারেক ও কোকো দেখেনি। একটা বাক্স এনে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় সংসদ এলাকায় দাফন করা হয়। বিএনপি নেতারা সেখানে গিয়ে ফুল দেয়। কিন্তু কাকে ফুল দেয়, তারা কি জানে?

তিনি বলেন, মনে হয়েছিল ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রতিশোধে নেওয়া হয়েছিল। ১৫ আগস্টের খুনিদের বিচার হবে না, সেই অধ্যাদেশ জারি করা হয়। শুধু তাই নয়, খুনিদের চাকরিও দেওয়া হয়। এই খুনিরা বিভিন্ন দূতাবাসে যখন চাকরি পায়, অনেক দেশ কিন্তু নেয়নি তাদের।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান জড়িত না থাকলে মোশতাক এই হত্যাকাণ্ড করতে পারতো না। ১৫ আগস্টে শুধু একটা পরিবারকে হত্যা করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার মূল্যবোধকে হত্যা করা হয়েছে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান।

আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, সহসভাপতি ডা. দিলীপ রায় এবং উত্তরের সহসভাপতি সাদেক খান এমপি প্রমুখ।