আজ (১২ই নভেম্বর) বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস। নিউমোনিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘নিউমোনিয়া এফেক্টস এভরিওয়ান’ অর্থাৎ ‘নিউমোনিয়া সবাইকে আক্রান্ত করে।’
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই নিউমোনিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। নিউমোনিয়া প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী কাজ করছে স্টপ নিউমোনিয়া। সংস্থাটি জানায়, প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুমৃত্যুর একক বৃহত্তম কারণ নিউমোনিয়া। বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ৩৬১ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। প্রতিদিন গড়ে ৬৮ জন ও বছরে ২৪ হাজার ৮২০ শিশু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
গ্লোবাল কোয়ালিশনের উদ্যোগে ২০০৯ সাল থেকে শুরু হয় বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস পালন। দ্য গ্লোবাল কোয়ালিশন অ্যাগেইনস্ট চাইল্ডহুড নিউমোনিয়া হলো আন্তর্জাতিক, সরকারি, বেসরকারি এবং সম্প্রদায়-ভিত্তিক সংস্থা, গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠান, ফাউন্ডেশন এবং ব্যক্তিদের একটি নেটওয়ার্ক। যখন প্রথম বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস চালু করা হয়েছিল, তখন নিউমোনিয়া প্রতি বছর প্রায় ১২ লাখ শিশু মারা যেতো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে নিউমোনিয়া চিকিৎসায় সম্প্রসারিত টিকাসহ নানা কর্মসূচি থাকলেও বায়ুদূষণ, অসচেতনতা, নিরাপদ পানির সংকট ও অপুষ্টি এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ফুফফুস সংক্রমণজনিত রোগ নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালন করছে। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালের রেসপিরেটরি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও লাং ফাউন্ডেশন সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ দিন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে চিকিৎসক, নার্স ও রোগীদের নিয়ে শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হবে।