ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার নামে বুয়েটকে অপরাজনীতি আর জঙ্গীবাদের আস্তানায় পরিনত করা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তেমন কোন কিছু হলে সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

আজ রবিবার (৩১শে মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত দলীয় একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ডে কাউকে ছাড় দেয়া হয় নি। রাজনীতি করলে বুয়েটে যাওয়া যাবে না এটা কোন আইন।’

বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, “সেই রকম হলে সরকারকে অ্যাকশনে যেতে হবে। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সকল অপকর্ম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সেই নীতিতে আমরা এগিয়ে চলছি।

“বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ডে আমরা ছাড় দিইনি। আজকে আমি রাজনীতি করি, সেখানে বুয়েটে যেতে পারব না? এটা কোন ধরনের আইন? এটা কোন ধরনের নীতি?”

রোববার তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এ কথা বলেন কাদের।

২০১৯ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর আন্দোলনের মুখে ওই ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, দপ্তর সম্পাদকসহ অনেকে বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে এর প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে ফের আন্দোলন শুরু হয়।

ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-মিছিল এবং সংবাদ সম্মেলনে করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মুখে পুরকৌশল বিভাগের ২১তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিমের হলের সিট বাতিল করা হয়। তবে ইমতিয়াজসহ আরো পাঁচ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনার পর বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি ফেরাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে রোববার প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। বুয়েটে ‘নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি’ ফেরানোর দাবি জানাচ্ছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে শনিবার শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও বুয়েটে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা চলছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর মত তিনিও বিষয়টি খতিয়ে দেখার তাগিদ দেন।