এ বছর কে পাচ্ছেন ব্যালন ডি’অর, ফলাফল আগেই জানা ছিল। অপেক্ষা ছিল শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। অবশেষে সে ঘোষণাও চলে আসল। ফুটবলারদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ মর্যাদার পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’ প্রথমবারের মতো ওঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমার হাতে।
প্যারিসের চ্যাটেলেট থিয়েটারে সোমবার (১৭ অক্টোবর) রাতে ফ্রান্স ফুটবলের পক্ষে তার হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ও কোচ জিনেদিন জিদান। বর্ষসেরা ফুটবলারের দৌড়ে বেনজেমা ভোটে পেছনে ফেলেছেন কেভিন ডি ব্রুইনা, রবার্ট লেভানদোভস্কি ও সাদিও মানেকে।
গত মৌসুমটা দুর্দান্ত কেটেছে করিম বেনজেমার। একই সঙ্গে দুর্দান্ত কেটেছে রিয়াল মাদ্রিদেরও। ২০২১-২০২২ মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে ৪৬ ম্যাচে ৪৪ বার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছেন বেনজেমা। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগে দুটি হ্যাটট্রিকসহ করেছেন ১৫ গোল।
তার পারফরম্যান্স নৈপুণ্যে ১৪তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এছাড়া ৩৫তম লা লিগা শিরোপা ছাড়াও, পঞ্চম বারের মতো উয়েফা সুপার কাপ ও ১২তম বারের মতো স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। বলা যায় রিয়ালকে এক মৌসুমে এতগুলো ট্রফি জেতাতে সাহায্য করেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা।
ক্লাবের পাশাপাশি জাতীয় দলেও ছন্দে ছিলেন তিনি। উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের ২-১ ব্যবধানে জেতার রাতে গোল করেছিলেন এ স্ট্রাইকার। যার সুবাদে লা লিগায় ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পিচিচি ট্রফি জয়ের পাশাপাশি এরই মধ্যে উয়েফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ড।
এমন একটি দুর্দান্ত মৌসুম কাটানোর পরে স্বাভাবিকভাবে তার ধারেকাছে থাকার কথা ছিল না অন্য কারোর। এর আগে ২০০৮ ও ২০২১ সালের মধ্যে ব্যালন ডি’অরের জন্য ১০ বার মনোনীত হলেও কখনো হাতে ওঠেনি ফুটবলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ মর্যাদার এ পুরস্কারটি। তবে এবার তিনি পারফরম্যান্স নৈপুণ্যে আদায় করে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর।
বেনজামা ছাড়াও এদিন নারী বিভাগে টানা দ্বিতীয় বারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন বার্সা তারকা অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও পাঁচ ফুটবলার ও এক ক্লাবকে পুরস্কার দেয়া হয়।
একনজরে ফ্রান্স ফুটবলের বর্ষসেরার পুরস্কার:
বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলার- করিম বেনজেমা
বর্ষসেরা নারী ফুটবলারা- অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস
বর্ষসেরা ক্লাব- ম্যানচেস্টার সিটি
লেভ ইয়েশিন ট্রফি (সেরা গোলরক্ষক)- থিবো কোর্তোয়া
জার্ড মুলার ট্রফি (সেরা স্ট্রাইকার)- রবার্ট লেভানডফস্কি
সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড (দাতব্য কাজে সম্পৃক্ততা)- সাদিও মানে
কোপা ট্রফি (অনূর্ধ্ব-২১ বছর বয়সী সেরা খেলোয়াড়)- গাভি