রাশিয়ায় প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে ভাড়াটে সেনাবাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগিনি প্রিগোজিন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। যিনি গত জুন মাসে একটি ব্যর্থ বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার আগে পর্যন্ত রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মিত্র ছিলেন। রাশিয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিমানে প্রিগোশিনের সঙ্গে আরও নয়জন ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার মস্কো টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার প্রিগোশিনকে বহনকারী ওই ফ্লাইট রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে যাচ্ছিল।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভোস্তির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিগোশিনসহ ওই উড়োজাহাজে ১০ আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন ছিলেন ক্রু। দুর্ঘটনায় সবাই নিহত হয়েছেন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভোস্তির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিগোশিনসহ ওই উড়োজাহাজে ১০ আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন ছিলেন ক্রু। দুর্ঘটনায় সবাই নিহত হয়েছেন।

দেশটির জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান দুর্ঘটনায় নিহত আরোহীদের একজনের নাম প্রিগোশিন। তবে ওই দুর্ঘটনা নিয়ে আর কোনো তথ্য জানাননি তাঁরা।

এর আগে ভাগনার গ্রুপ সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেল গ্রে জোন খবর দিয়েছে যে, মস্কোর উত্তরের একটি এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিবর্ষণে উড়োজাহাটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

ভাগনারপ্রধান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করছিল ভাগনার সেনারা। তবে রুশ সামরিক নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ ছিল প্রিগোশিনের।

এ অসন্তোষের প্রকাশ ঘটে গত ২৩ জুন। বিদ্রোহ করে বসেন প্রিগোশিন। রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বকে উৎখাতের জন্য ইউক্রেন সীমান্ত থেকে মস্কোর দিকে অভিযান শুরু করেন তিনি। পথে কয়েকটি শহর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন ভাগনারের যোদ্ধারা। ভাগনারের নিয়ন্ত্রণে যায় গুরুত্বপূর্ণ একটি রুশ সেনাঘাঁটি।

প্রিগোশিনের বিদ্রোহের জেরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। পরবর্তী সময়ে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেন প্রিগোশিন। সমঝোতায় বলা হয়, প্রিগোশিনসহ ভাগনার সেনারা রাশিয়া ছেড়ে বেলারুশে চলে যাবেন।

বিদ্রোহের পর ভাগনার সেনারা বেলারুশে চলে যান। তবে ভাগনারপ্রধান প্রিগোশিনের অবস্থান নিয়ে জল্পনাকল্পনা রয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, তিনি বেলারুশে আছেন। এমনকি তাঁর রাশিয়া সফর এবং পুতিনের সঙ্গে দেখা করার খবরও জানা যায়। কিন্তু কখনোই প্রকাশ্যে আসেননি তিনি।