মাদারীপুর শহরের কলেজ রোড এলাকায় সাগরিকা আহম্মেদ (২০) ও পারুল আক্তার রুপা (২০) নামে দুই বান্ধবীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন আরও দুইজন। শনিবার (১৪ই অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শহরের কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাগরিকা (২০) শহরের উকিলপাড়া এলাকার কেএইচ শাকিল আহম্মেদের মেয়ে। অপর বান্ধবী পারুলের (২২) বাড়ি নাটোর জেলায়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাতে হঠাৎ চিৎকার চেচামেচি শুনে রুমে ছুটে যান বাসার কেয়ারটেকার হেলাল সরদার। পরে ফ্লোরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন সাগরিকা আহম্মেদ নামে এক তরুণীকে। এ ছাড়া অসুস্থ অবস্থায় সাগরিকার বান্ধবী পারুল, সাবিনা ইয়াসমিন (৪০), পান্না আক্তার (২৩), ডালিয়া বেগম (৪০) ও বাবু মণ্ডলকে (৩৬) উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পারুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে কি কারণে তারা মারা গেছে এখনো বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানাতে পারেনি কেউ। তবে একটি বিস্বস্ত সূত্র জানায়, রাতে নেশাজাতীয় পানীয় খেয়ে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বিষক্রিয়ায় সাগরিকা ও তার বান্ধবী পারুল মারা যায়।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, শনিবার রাতে মাদারীপুর সরকারি কলেজের পেছনে লোকমানের বাড়ির চারতলার ভাড়া বাসায় সাবিনার মেয়ে সাগরিকার তিন বান্ধবী বেড়াতে আসেন। এরপর তারা সবাই মিলে দেশি ও বিদেশি মদ পান করেন। কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়েন সবাই। পরে অসুস্থতা বোধ করলে ঘুম ভেঙে যায় সাবিনাদের। এরপর তারা দেখেন, সাগরিকা ও তার বান্ধবী রুপা নিথর হয়ে পড়ে আছেন। আর সাবিনার ভাইও অসুস্থ হয়ে গেছেন। পরে কেয়ারটেকারের সহায়তায় সাগরিকা, রুপা, সাবিনা ও বাবুকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সাগরিকা ও রুপাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাগরিকার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পহেলা অক্টোবর মা, মেয়ে ও মামা তিনজনে ওই বাসায় ভাড়া ওঠেন। শনিবার রাতে বাসায় আসে অপরিচিত আরও ৩-৪ জন নারী। পরে এ ঘটনা ঘটে। এর পর অপরিচিতদের আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।