বৃষ্টি কমে গেলেও এখনও চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারের বহু এলাকা পানির নিচে। এসব এলাকায় পানিবন্দি হাজারও মানুষ আছে দুর্ভোগে। চন্দনাইশের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে পানি পুরোপুরি সরেনি। পাবর্ত্য বান্দরবানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি এখনও। জেলা সদরের সাথে সব উপজেলার সড়ক যোগাযোগও পুরোপুরি চালু হয়নি। খাবার পানি ও শুকনো খাবার সংকটে আছে পানিবন্দি মানুষ।

চটগ্রাম মহানগরী থেকে পানি নামলেও বিভিন্ন উপজেলার নিæাঞ্চল এখনও ডুবে আছে। সাতকানিয়া, চন্দনাইশের বেশ কয়েকটি গ্রাম এখনো পানির নিচে। চন্দানাইশে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে ঢলে পানি পুরোপুরি নামেনি। তবে পানি কমে আসায় কিছু যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে।

হাটহাজারী, রাউজান ও চন্দনাইশে পানিতে ভেসে যাওয়া তিনব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্সবাজার বুধবার বৃষ্টি কমে গেছে। তবে ৯টি উপজেলার অনেক নিæাঞ্চল এখনও জলমগ্ন। সড়ক বাড়িঘর ডুবে আছে। হাঁটু ও কোমর সমান পানি ভেঙে মানুষ জরুরি কাজে বের হন। ঘরে পানি ওঠায় খাবার পানির সংকটে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ।

প্লাবিত এলাকার প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বহু সড়ক, উপসড়ক ও গ্রামীণ সড়ক ভেঙ্গে গেছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জেলার ৬০টি ইউনিয়ন পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে জেলা প্রশাসন ও নৌবাহিনী।

অতিভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সোমবার থেকে সড়ক যোগাযোগ ও মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে মানুষের। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে প্লাবিত ও বিচ্ছিন্ন এলাকায়।

রাঙামাটিতে কাপ্তাই লেক ও নদনদীর পানি এখনও বাড়তি। জেলা সদরে সাথে এখনও বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন উপজেলা ও দুর্গম জনপদ। ধসেপড়া পাহাড়ের মাটি সরিয়ে সড়ক যোগযোগা চালুর জন্য কাজ করছে প্রশাসন ও সেনাবাহিনী। রাঙ্গামাটির সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে আটকেপড়া পর্যটকরা বুধবারই ফিরতে পারবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় খাগড়াছড়িতে নতুন করে পাহাড় ধসের খবর পাওয়া যায়নি। নিæাঞ্চল থেকে পানি সরতে শুরু করেছে।

এছাড়া, ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের মুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার নিচে নেমেছে। তবে গত দ্ইু দিনে বাঁধের ভাঙ্গনে প্রায় ৯টি গ্রাম তলিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখেছেন এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক। বানবাসী মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।