তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। শুধু তুরস্কেই মারা গেছেন ৮ হাজারের বেশি। আর সিরিয়ায় প্রাণহানি আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভবন ও বাড়িঘরের ধ্বংস্তুপে চাপা পড়াদের বেঁচে থাকার আশা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। তবে তীব্র ঠান্ডার মধ্যেই উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। যোগ দিয়েছেন বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের উদ্ধারকর্মীরা। তবে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা ধীরগতির হওয়ায় দেখা দিয়েছে জন অসন্তোষ। এই পরিস্থিতিতে দুগর্ত এলাকা পরিদর্শন করে উদ্ধার তৎপরতায় সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী সিরিয়ার আলেপ্পোসহ কয়েকটি প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দুইদিন কেটে গেছে। ভেঙ্গে পড়া বাড়িঘর ও ভবনের ধ্বংসস্তুপে আটকে পড়াদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনও আজানা। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়াদের কাছ থেকে যেসব ভিডিও ও ভয়েস মেসেজ পাওয়া যাচ্ছিল এখন তাদের আর কোন সাড়া মিলছে না। সময় যতই গড়াচ্ছে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার আশা ততই কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়া যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ধসে পড়েছে হাজার হাজার ভবন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধীরগতিতে উদ্ধার অভিযান চালানোয় আটকেপড়া অনেকে মারা যাচ্ছেন।
তবে ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা করছে উদ্ধারকারীরা। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশ থেকে যোগ দিয়েছেন কয়েক হাজার উদ্ধারকর্মী। ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধার অভিযান চলছে।
ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। খাদ্য ও শীতের পোশাকের তীব্র সংকটে আছেন তারা। দুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য তুরস্কের বিভিন্ন স্থানে তিন লাখের বেশি তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান। এসময় ভুক্তভোগীদের সাথে সাক্ষাৎ করে উদ্ধারকাজে ভুল-ত্র“টির কথা স্বীকার করেন তিনি। দুর্যোগ মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন এরদোয়ান।
এদিকে, ইউনিসেফ জানিয়েছে, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সিরিয়ার হাসপাতালগুলোতে আর জায়গা নেই। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ভূমিকম্পের আগে সিরিয়ার জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন ছিলো। তবে বর্তমানে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। চরম মানবিক সংকট সমাধানে ইউরোপিয় ইউনিয়নের কাছে আরও সহায়তার আবেদন জানিয়েছে সিরিয়ার সরকার।