প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি নিজে ভোগ করতে আসিনি, দেশের মানুষের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করেছি।’ আজ বুধবার (২১ জুন) ১২টার পর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ড ও কাতার সফর সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এই দেশের ক্ষমতায় এসেছি চার চারবার এবং দেশের উন্নতিও করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি এই দেশের ক্ষমতায় এসেছি চার চারবার। দেশের উন্নতিও করেছি। এমন না যে ক্ষমতায় এসে শুধু ক্ষমতাকে ভোগ করেছি, তা না। মানুষের অবস্থার উন্নতি করেছি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধান আছে। নির্বাচনি আইন আছে। নির্বাচন যেভাবে হওয়ার সেভাবে হবে। সংবিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট সময়ই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গণতান্তিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই আজ দেশেটা এগিয়ে গেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর ইলেকশন বলে কিছু ছিল না। ভোটের অধিকার ছিল না। আমরাই আন্দোলন করে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। এখন অনেকে অনেক কথা বলতে পারে। তাদের কথা আলাদা। তারা একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইবে।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা এদেশের গণতন্ত্র হরণ করে গণতন্ত্রের প্রবক্তা সেজেছে, স্বাভাবিকভাবে তারা কখনও এদেশের কল্যাণ চাইবে না। তারা একটা ঘোলাটে পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইবে। আমাদের দেশের যেসব সচেতন নাগরিক তারা এসবকে গুরুত্ব কেন দেবে। তারা তো বিচার করবে সাড়ে ১৪ বছর আগে বাংলাদেশ কোথায় ছিল আর এখন কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে, আমাদের সার্বিক উন্নতি হয়েছে কী হয়নি, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে কী পায়নি, দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নত হয়েছে কী হয়নি, মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে কী পায়নি। আপনাদের মতো সচেতন নাগরিকরা সেটাই আগে বিবেচনা করবেন।
তিনি বলেন, আমার আত্মবিশ্বাস আছে আমি মানুষের জন্য কাজ করছি। মানুষের যদি পছন্দ হয় আমাকে ভোট দেবে, না হয় না দেবে। ভোট না দিলে আমি থাকব না।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা আমাদের ভোটচোর বলে তারা তো ভোটডাকাত। কারণ তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, অবৈধভাবে ভোট ডাকাতি করেই এসেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন চার দিনের সফরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৪ ও ১৫ জুন অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট: সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল’-এ যোগদান শেষে ১৭ জুন দেশে ফেরেন তিনি। এর আগে গত ২৩-২৫ মে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় কাতার ইকোনমিক ফোরামে যোগ দেন সরকারপ্রধান।