কাতার বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপের মিশন শেষ করল গতবারের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া। মরক্কো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হেরেছে ২-১ গোলে। প্রথমার্ধের জমজমাট লড়াইয়ের পর যে কেউই অনুমান করতে বাধ্য দ্বিতীয়ার্ধেও খেলা হবে আরও প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ। কিন্তু এমনটা আর হয়নি শেষ অর্ধে। এক গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ক্রোয়েশিয়া দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই খেলেছে রক্ষণাত্মক। আর আফ্রিকান প্রতিনিধিরা আক্রমণে বারবার ভীতি ছড়িয়েও ফিনিশিংয়ের অভাবে পায়নি জালের দেখা। শেষ পর্যন্ত এই ব্যাবধানেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কোচ জ্লাতকো দালিচের শিষ্যরা।
দুই দলেরই বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে আগেই। সেমিফাইনালে ক্রোয়শিয়াকে সহজে হারিয়ে মেসির আর্জেন্টিনা উঠে যায় ফাইনালে। অন্যদিকে মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে দেয় বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। সেমিফাইনালে পরাজিত এই দুই দল কাতারের খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ নেমেছিল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। এই ম্যাচ জিতে ফাইনালে না যাওয়ার কষ্ট কিছুটা হলেও ভোলার সুযোগ ছিল দুই দলের সামনে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া।
শনিবার খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে দুই দল। সমানে সমান লড়াই করে প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় লুকা মদ্রিচরা। মদ্রিচের ফ্রি কিকে ফাঁকায় বল পেয়ে ইভান পেরিসিচ হেডে বাড়ান ছয় গজ বক্সের সামনে, আর ডাইভিং হেডে পোস্ট ঘেঁষে গোলটি করেন ডিফেন্ডার ইয়োস্কো গাভারদিওল।
আসর জুড়ে অবিশ্বাস্য সব পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া মরক্কো পাল্টা জবাব দিতে দুই মিনিটও দেরি করেনি। ডান দিকের সাইডলাইন থেকে হাকিম জিয়াশের ফ্রি কিক তেমন ভালো ছিল না, তবে বক্সের মুখে ডিফেন্ডার লভরো মাইয়ের হেডে ফেরাতে গিয়ে উল্টো বল পাঠিয়ে দেন গোল মুখে। সেখানে হেডেই সমতা টানেন আশরাফ দারি। জাতীয় দলের হযে এই ডিফেন্ডারের এটাই প্রথম গোল।
প্রতিপক্ষের চাপের মুখে ২৮তম মিনিটে জিয়াশের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় ভালো একটি আক্রমণ করে আশরাফ হাকিমি। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ছয় গজ বক্সে বল বাড়ান পিএসজি ডিফেন্ডার; কিন্তু একটু বেশি এগিয়ে ছিলেন ইউসেফ এন-নেসিরি।
৪২তম মিনিটে মিসলাভ অরসিচের দারুণ নৈপুণ্যে এগিয়ে যায় ক্রোয়াটরা। ডি-বক্সের মুখে মরক্কো বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে সতীর্থের পা ঘুরে বক্সের ডান দিকে পেয়ে যান অরসিচ। প্রথম ছোঁয়ায় নেন কোনাকুনি শট, বল দূরের পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।
দ্বিতীয়র্ধে গোল শোধ করতে আক্রমণের ধার বাড়ায় মরক্কো। একের পর এক আক্রমণ করলেও শেষ পর্যন্ত আর জালের দেখা পায়নি তারা। সাজানো আক্রমনগুলো গোল মুখে গিয়ে আর জালের দেখা পাচ্ছিল না অ্যাটলাস সিংহদের। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল তারা। তবে বার বার ক্রোয়োশিয়ার রক্ষণে মুখ থুবড়ে পড়েছে তাদের আক্রমণ। অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোর দৃঢ়তায় গোলের ব্যাবধান বাড়ানো হয়েনি ক্রোয়েশিয়ার।
তৃতীয় স্থান বির্ধারণী ম্যাচে জিতে একটি ব্রোঞ্জ পদক এবং ২৭ মিলিয়ন ডলার পেল ক্রোয়েশিয়া। মরক্কো দুই মিলিয়ন ডলার কম পাবে, মানে ২৫ মিলিয়ন।