রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কনসার্ট হলে বন্দুক হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ৬০ জনে। সেই সঙ্গে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ১৪৭ জনকে। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

রুশ তদন্ত সংস্থার সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্রোকাস সিটি হল কমপ্লেক্সে সন্ত্রাসী হামলার পর সেখান থেকে এ পর্যন্ত ৬০ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন মোট ১৪৭ জন। তাদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

হামলার সময় হলটিতে পিকনিক নামে একটি ব্যান্ডের পরিবেশনার প্রস্তুতি চলছিল। এই কনসার্টের জন্য ছয় হাজার ২০০ টিকিট বিক্রি হয়েছিল। ওই হলে নয় হাজারের বেশি মানুষের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

হামলার পর হতাহতের উদ্ধারে আসে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পরপর নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে আইএসের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স; যদিও আইএসের ওই পোস্ট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হামলার নিন্দা করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশপাশের এলাকা খালি করে দেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রাশিয়ার তদন্তকারী সংস্থা।

রাশিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলাকারীরা ছদ্মবেশে কনসার্ট হলে ঢুকেছিল। তাদের কাছে স্বয়ংক্রিয় বন্দুক ছিল।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স হামলার যে ভিডিও প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, হামলাকারীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাচ্ছে এবং হলের মধ্যেই বোমা ছুড়ছে। অডিটোরিয়ামের ছাদে আগুন লেগে চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গেছে।

প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই হামলা থেকে বাঁচতে অনেকেই মাটিতে শুয়ে পড়েছিলেন। গুলি চালানো বন্ধ হলে লোকজন সেখান থেকে হামাগুড়ি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।

রাশিয়ার আপৎকালীন মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানিয়েছে, হামলার হাত থেকে বাঁচতে হলের বেসমেন্টে প্রায় ১০০ জন আশ্রয় নিয়েছিলেন। হলের ছাদেও আশ্রয় নিয়েছিলেন অনেকে। সকলকেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ‘সকল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবশ্যই এই জঘন্য অপরাধের নিন্দা করা উচিত।’ হামলার নিন্দা করেছে যুক্তরাষ্ট্রও। তবে এই হামলার সঙ্গে ইউক্রেনের কোনো যোগসাজশ নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।