বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাঙ্কিপক্স নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করার পর বাংলাদেশে বন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পশু থেকে এই রোগ মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত আশপাশের লোকদের আক্রান্ত করে।

মাঙ্কিপক্স ভাইরাস নিয়ে জরুরি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে পরীক্ষা করা হচ্ছে না ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবোঝাই ট্রাক চালক ও হেলপারদের। রোববার সকাল ১০টার দিকে মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের সতর্কতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল ইমিগ্রেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মরিয়ম বেগম। ইমিগ্রেশনে কর্তব্যরত কর্মকর্তারা বলেন, ভারত ফেরত সব যাত্রীকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে সংক্রমক এই ভাইরাস আতঙ্কে আতঙ্কিত ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীরাও। আতঙ্ক থেকে দূরে নেই বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট স্বাস্থ্য বিভাগ, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ভারত ফেরত যাত্রী সবুজ হোসেন বলেন, মাঙ্কিপক্স রোগের বিষয়ে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে কোনো যাচাই-বাছাই বা পরীক্ষা করেনি। বাংলাদেশে প্রবেশের পর স্বাস্থ্য ডেস্কে আমার হাত-পায়ে কোনো র?্যাশ (চামড়া ফোলা/ চুলকানি) আছে কিনা পরীক্ষা করেছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিচালক ডা. মরিয়ম বেগম জানান, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ভারত ফেরত প্রতিজন যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রীর শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়নি।

চিকিৎসকরা বলছেন, এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির জলবসন্ত, গুটিবসন্তের পাশাপাশি শরীর ব্যথা ও জ্বর হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যরা দ্রুত আক্রান্ত হয় বলে ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে মাঙ্কিপক্স দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ায় গেলো বুধবার বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ২০২২ সালের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাঙ্কিপক্স নিয়ে দ্বিতীয়বার সতর্কতা জারি করলো।

কঙ্গো থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও। শনিবার বাংলাদেশের বিমান, নৌ ও স্থাল বন্দরে সতর্কতা জারি করে স্বাস্থ্য বিভাগ। পশুবাহিত এই ভাইরাসে আক্রান্ত কোন মানুষের সংস্পর্শে আসা অন্য মানুষ দ্রুত আক্রান্ত হয়, তাই সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি বলে জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে জ্বর, ব্যথা,ফুলে যাওয়া, চুলকানি হতে পারে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ।

মাঙ্কিপক্স ভাইরাস শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছাড়ায়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা জিনিসপত্রের মাধ্যমেও এই ভাইরাস ছাড়াতে পারে বলে জানান তিনি। এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হয়, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

বাংলাদেশ এখনও মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের প্রাথমিক ঝুকিতে রয়েছে উল্লেখ করে এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলছেন, বিমানবন্দর, নৌ ও স্থল বন্দরে স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে।  বিদেশ থেকে কেউ আক্রান্ত হয়ে আসলে তাকে আলাদা রাখতে হবে।