ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়ার পরেও বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমছে না। মানুষ অধৈর্য হয়ে গেছে— যা খুবই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ‘পিকেএসএফ দিবস-২০২৪’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দুই অংকে পৌঁছে যাওয়া মূল্যস্ফীতিতে লাগাম দিতে সরকার আমদানি পর্যায়ে চালের পাশাপাশি পেঁয়াজ, আলু আর ভোজ্যতেলের শুল্ক কমিয়েছে। কিন্তু তার কোনো প্রভাব খুচরা বাজারে নেই।
বরং গত এক মাসে আলুর দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা, চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ থেকে ১২ টাকা, পেঁয়াজের দাম ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, রসুনের দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।
এসব পণ্যের দর বৃদ্ধি স্বল্প আয়ের মানুষদের জীবন আরও কঠিন করে তুলেছে, কারণ স্বল্প আয়ের মানুষ তাদের খাদ্যের পেছনে ব্যয়ের বেশিরভাগ করেন এসব পণ্য কিনতেই।
উপদেষ্টা বলেন, “এখানে অনেকগুলো ফ্যাক্ট আছে। মানুষের বাজারে কষ্ট হচ্ছে ৫০০ টাকা নিয়ে গেল দুমুঠো শাক, অন্যান্য… কিন্তু টাকা শেষ হল। আমি চেষ্টা করছি বাজারে দাম কমানোর জন্য।”
ভারতে ইলিশ রপ্তানিকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হলেও বিষয়টি ইতিবাচক হিসেই দেখতে চান সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন।
তিনি বলেন, “আমার ছোট ভাই ফোন দিয়ে বলে ভাই, ইলিশ মাছ দিয়ে দিলেন, ফেইসবুকে আপনাকে গালি দিয়ে ভরে দিচ্ছে। আমার কিন্তু ফেইসবুক নাই।
“একটা সিজনে ৫ লাখ ৩০ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হয়, ভারতে দিলাম মাত্র ৩ হাজার টন। অনেকে বলছে ভারতে ইলিশ দেওয়া ভালো সিদ্ধান্ত।”
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চলে গেলেও মানুষ মনে টনে রাখবে। কারণ আমরা ভালো কাজ করেছি। মানুষ বলবে, ‘স্যার আপনি ওখানে ছিলেন, আপনি অমুক কাজ করছেন’।
“অনেকে আমাদের ধন্যবাদ দেয় যে– ‘স্যার আপনি ট্যাক্সের অমুক কাজটি ভালো করেছেন।’ বন্ডের ট্যাক্স তুলে দেওয়াতে মানুষ আমাদের অনেক ভালো বলে। সঞ্চয়পত্রেও আমরা ভালো করেছি। এখন সঞ্চয়পত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিনিউ হচ্ছে। ভালো জিনিস যত তাড়াতাড়ি করা যায় ততই মঙ্গল।”
সেই সঙ্গে আক্ষেপও করেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, কিন্তু আবার প্রতিষ্ঠান নেই– এমন অবস্থা। ভালো প্রতিষ্ঠানের বড্ড অভাব। বিল্ডিং আছে, কিন্তু মানুষ নেই, সেখানে স্বচ্ছতার অভাব, জবাবদিহিতার অভাব। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলি, যে তুমি এটা দেখ।”
উল্লেখ্য, কর্মসৃজনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সরকার আশির দশকে একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ নেয়। কয়েক বছর ধরে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতবিনিময় এবং বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনা চূড়ান্ত হয়। ১৯৮৯ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এ প্রস্তাবনা অনুমোদনের মাধ্যমে পিকেএসএফ গঠিত হয়। সে অনুযায়ী, ১৩ নভেম্বর পিকেএসএফ দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।