স্বাধীনতার মাসে প্রবাসী আয় দুইশ’ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। গত সাত মাসের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। আর রপ্তানি আয় ফেব্রুয়ারি মাসের চেয়ে মার্চ মাসে কিছু বেড়েছে। তবে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। বিদেশি ক্রেতাদের রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় এই খাতে আয় কমবে বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের সময় পরিবারের বাড়তি খরচের কথা মাথায় রেখে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

চলতি বছর প্রথম ৯ মাসে পোশাক পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ। মার্চ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০২ কোটি মার্কিন ডলার। তবে আয় হয়েছে ৪৬৪ কোটি ডলার। সেই হিসেবে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। মার্চ মাসে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে ১১ কোটি ৮২ লাখ মার্কিন ডলার। তবে ফেব্র“য়ারি মাসে পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৪৬৩ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। সেই হিসেবে মার্চে রপ্তানি আয় কিছুটা বেড়েছে।

বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি, মোহাম্মদ হাতেম বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে রপ্তানি আদেশ কমেছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা সামনের দিনে আরও কমতে পারে রপ্তানি আয়।

তবে সুখবর আছে প্রবাস আয়ে। সাত মাস পর মার্চ মাসে বৈদেশিক আয় এসেছে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। স্বাধীনতার মাসে ২০১ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সবশেষ ২০০ কোটি ডলারের ওপর আয় এসেছিল গত বছরের আগস্টে। যার পরিমাণ ছিল ২০৩ কোটি ডলার। আর গেল ফেব্র“য়ারি মাসে প্রবাসি আয় এসেছিল ১৫৬ কোটি ১২ লাখ ডলার। সে হিসেবে আগের মাসের চেয়ে ৪৫ কোটি ৭২ লাখ ডলার বেশি এসেছে মার্চ মাসে।

প্রতিবছর ঈদের আগে বৈদেশিক আয় বেশি পাঠান প্রবাসীরা। এর ধারাবাহিতকায় মার্চ মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় বাড়াতে কিছু পরামর্শও দেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সঠিক নীতি গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে পারলে বৈদেশিক আয় বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।