প্রকাণ্ড ভারত, আর পুঁচকে মালদ্বীপের মধ্যে তুলনা করাই বোকামি। তারপরও ভারতের সঙ্গে মালদ্বীপের টানাপোড়েন এখন উপমহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে গোটা বিশ্বেই অন্যতম শিরোনাম। ভারতের নতুন পর্যটন গন্তব্য লাক্ষাদ্বীপকে ঘিরে মালদ্বীপের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। এর জেরেই ভারতীয় নৌ বাহিনীকে এ মাসের মধ্যেই মালদ্বীপ ছেড়ে যেতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে দেশটির মুইজ্জো সরকার।
ভারত জানিয়েছে, লাক্ষাদ্বীপের মিনিকয় দ্বীপে প্রাথমিক ভাবে আইএনএস ‘জটায়’ রণতরী মোতায়েন করা হবে। পরে এই তরীকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে ‘আইএনএস জটায়ু’ নৌঘাঁটি।
ঘাঁটিটি থেকে মালদ্বীপ সংলগ্ন সাগরে নজর রাখা সম্ভব হবে। প্রাথমিক ভাবে সেখানে কয়েক জন নৌ কর্মকর্তা ও কর্মীকে পাঠানো হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধি বাড়বে।
গত বছর ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মালদ্বীপের ক্ষমতায় আসেন দেশটির চীনপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু। এর পর থেকেই ভারত ও মালদ্বীপের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়।
ভারতের লাক্ষাদ্বীপে নতুন ঘাঁটি ৬ মার্চ চালু হবে বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী।
বার্তা সংস্থা এএফপি রোববার ভারতের এমন পদক্ষেপ খবর নিশ্চিত করেছে। শনিবার রাতে ভারতীয় নৌ বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, মালদ্বীপে ক্রমাগত চীনা উপস্থিতির বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। নতুন এই ঘাঁটি ওই এলাকায় ভারতের সক্রিয় নজরদারিকে জোরদার করবে। লাক্ষাদ্বীপে ৬ মার্চ খোলা হবে নতুন ঘাঁটি। এর ফলে বিদ্যমান ছোট বিচ্ছিন্ন বাহিনী একটি ‘স্বাধীন নৌ ইউনিটে’ পরিণত হবে।
ভারতের লাক্ষাদ্বীপ মালদ্বীপের প্রায় ১৩০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। মিনিকয় দ্বীপে ভারতের নতুন নৌ ঘাঁটিটিও এর খুব কাছে অবস্থিত। লাক্ষাদ্বীপের কাভারত্তিতে ইতোমধ্যেই ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি রয়েছে। তবে, নতুন ঘাঁটিটি মালদ্বীপের প্রায় ২৫৮ কিলোমিটার কাছাকাছি হবে। ভারতীয় নৌ বাহিনী মনে করছে, ঘাঁটিটি জলদস্যু ও মাদকবিরোধী অভিযানেও কাজে লাগবে।
গত বছর চীনপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু ভারতীয় বাহিনী হটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হবার পর থেকে ভারত-মালদ্বীপের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে। মালদ্বীপে অবস্থিত ভারতের ৮৯ সেনাকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। এর প্রথম ব্যাচটি ১০ মার্চের মধ্যেই মালদ্বীপ ত্যাগ করবে। আর বাকিদের দুই মাসের মধ্যে চলে যেতে হবে।