ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের স্থলভাগে ওঠে এলেও এর প্রভাবে সাগর বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। তাই সব সমুদ্রবন্দরগুলোতে দুই নম্বর দুরবর্তী সংকেত নামিয়ে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক তোলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তি- ২০ এ এ তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে নিল্লোর ও মাসুলিপট্টমের কাছ দিয়ে মঙ্গলবার (০৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে এবং বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি স্থলভাগের অভ্যন্তরে আরও অগ্রসর হয়ে ও বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

এ অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাসমুদ্রবন্দরকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সর্তক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

অন্য এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে নিলর ও মাসুলিপট্টমের নিকট দিয়ে আজ বিকেল ৩টায় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে এবং বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি স্থলভাগের অভ্যন্তরে আরও অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

এ অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকাহাওয়াসহ হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।

এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।