ময়মনসিংহের ত্রিশালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিন মাস্টার হত্যা মামলায় ছয়জনের ফাঁসি ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুইজনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) বিকেলে দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবরিনা আলী এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আসামি মোবারক হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, তার ছেলে সোহাগ, রুবেল, সেলিম ও মো. ইদ্রিছকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মোফাজ্জল হোসেন ও দুলাল উদ্দিনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি পিযুস কান্তি সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জমি দখলের প্রতিবাদ করার জেরে ২০১৮ সালের ৩ জুন খুন হন ত্রিশাল উপজেলার জামতলী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন। তিনি উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং খাগাটি জামতলী মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন। ঘটনার পরের দিন অজ্ঞাতদের আসামি করে ত্রিশাল থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের ছেলে মাহমুদুল হাসান। এরপর তদন্ত শেষে পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে আদালতে ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক আজ এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার মাধ্যমে আসামিরা পুরো জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত ও কলঙ্কিত করেছে।

এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মাহমুদুল হাসান মামুন। তিনি বলেন, এলাকায় জমি দখলের প্রতিবাদ করায় হত্যা করা হয়েছিল আমার বাবাকে। এরপর বিচার বাধাগ্রস্ত করতে নানা অপতৎপরতা চালিয়েছে আসামিরা। তবুও আমরা শেষ পর্যন্ত এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমরা সকল আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম, তবে যে রায় হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।