১৪ জুলাই বিএনপি-জোট ছেড়ে আসার ঘোষণা দেওয়ার চার দিনের মাথায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) তিন জন কেন্দ্রীয় নেতা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ঈদুল আজহার পর মুক্তির এই তালিকা ধীরে-ধীরে আরও বাড়বে। জমিয়তের দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জমিয়তের একাধিক শীর্ষনেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রবিবার (১৮ জুলাই) জমিয়তের কেন্দ্রীয়সহ সভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা সভাপতি খালিদ সাইফুল্লাহ সাদী, যুগ্ম মহাসচিব ও কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ জামি, ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই গত এপ্রিলের বিভিন্ন দিনে গ্রেফতার হয়েছিলেন হেফাজতকেন্দ্রীক মামলায়।
জমিয়তের নেতারা জানান, জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মুঞ্জুরুল ইসলামের মুক্তির কথা শোনা গেলেও আদতে তা গুজব। তিনি এখনও কারাগারেই আছেন। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বাহাউদ্দিন জাকারিয়া বলেন, ‘না, তিনি এখনও মুক্তি পাননি।’
জমিয়তের আরেকজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, ময়মনসিংহ-ভিত্তিক ইত্তেফাকুল উলামার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মনজুরুল হক জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনিও হেফাজতের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটত্যাগ করে জমিয়তের একাংশ। সেদিন সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া অভিযোগ করেছিলেন, আলেমদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ না করা, জমিয়তের প্রয়াত মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমীর মৃত্যুতে বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা না জানানো এবং তার জানাজায় শরিক না হওয়া প্রভৃতি কারণে তারা জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকারের চাপে পড়েই জমিয়ত জোট ত্যাগ করেছে। ১৮ জুলাই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘এটা তো হচ্ছে রাজনীতি। রাজনীতি ভাঙাগড়ার খেলা। কখনও একূল ভাঙে, ওকূল গড়ে- এরকম চলে। মূল বিষয়টা সেটা না। বিষয়টা হচ্ছে, তারা চলে যাবেন, সরকারের চাপে। মামলা মোকাদ্দমা, প্রচণ্ডরকমের চাপ আছে। তার পরও অনেকের চাকরি চলে যাবে।’
জমিয়তের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মামলায় উল্লেখযোগ্য ধর্মভিত্তিক দলের শতাধিক নেতা কারাগারে আছেন। এর মধ্যে কয়েকজনের মুক্তি হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ‘উগ্রপন্থী বক্তা’ হিসেবে পরিচিত নওমুসলিম ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানীও রয়েছেন। যদিও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গত ১২ এপ্রিল ময়মনসিংহ থেকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার’ অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলা শ্রমিক লীগ নেতা ও জেলা সিএনজি-মাহেন্দ্র মালিক সমিতির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম শাহীন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছিলেন।
জানতে চাইলে জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া বলেন, ‘কোনও চাপ নেই, চাপের বিষয়ও নেই। ঈদের পর ইনশাল্লাহ পর্যায়ক্রমে আইনি প্রক্রিয়ায় বাকি নেতারাও বেরিয়ে আসবেন।’