সপ্তাহখানিক ধরেই খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে এ বিভাগের যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। প্রতিদিনই তাপমাত্রা এক ডিগ্রি করে বাড়ছে। তীব্র তাপদাহে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে ‘হিট স্ট্রোকে’ এক কৃষকসহ দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আজ শনিবার চুয়াডাঙ্গায় ‘হিট স্ট্রোকে’ জাকির হোসেন নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এদিন পাবনা শহরে ‘হিট স্ট্রোকে’ সুকুমার দাস নামে আরও এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
আজ বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৮ শতাংশ।
চুয়াডাঙ্গা: যশোরে আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ কারণে তাপদাহে পুড়ছে যশোরসহ আশপাশের জেলাও। চুয়াডাঙ্গায় ‘হিট স্ট্রোকে’ জাকির হোসেন (৩৩) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
আজ শনিবার (২০শে এপ্রিল) সকালে তিনি মাঠে গেলে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
তিনি দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার সীমান্ত সংলগ্ন ঠাকুরপুর গ্রামের আমির হোসেন ছেলে। জাকির হোসেনের বাবা আমির হোসেন ও দর্শনা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আমির হোসেন বলেন, ‘তীব্র গরমে মাঠের ধান মরার মতো অবস্থা। ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য সকাল ৮টার দিকে মাঠে যায় জাকির হোসেন। মাঠে যাওয়ার ঘণ্টাখানেক পর খবর পাই ছেলে স্ট্রোক করেছে। মাঠের অন্য কৃষকরা ছেলেকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথেই সে মারা যায়।’
পাবনা: এদিকে তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা পাবনা জেলা। অসহনীয় গরমে শহরে হিট স্ট্রোক করে সুকুমার দাস নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
আজ শনিবার (২০শে এপ্রিল) দুপুরে পাবনা শহরের রূপকথা রোডে একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় হিট স্ট্রোক করেন তিনি। এ সময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সুকুমার দাস শহরের শালগাড়িয়ার জাকিরের মোড়ের বাসিন্দা। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি হিট স্ট্রোকে মারা গেছেন। পাবনা শহর থেকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তাকে।