যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেশ কয়েকটি স্টেটে ঘূর্ণিঝড় ইডা ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু–সংক্রান্ত দুর্যোগের মুখে পড়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন ‘ঐতিহাসিক বিনিয়োগ’। খবর বিবিসি, সিএনএন, ফক্স নিউজ ও বিবিসির।
স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসে এক বক্তব্যে জলবায়ু–সংকট নিয়ে কথা বলেন বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে বলে সেখানে উল্লেখ করেন তিনি। বাইডেন বলেন, চলমান বন্যা, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে ইডার আঘাত এবং দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল জলবায়ু–সংকটের সংকেত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের চরম এ পরিস্থিতিকে ‘জীবন-মরণের মতো বিষয়’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তিনি বলেন, ‘এই সংকট আমাদের সময়ের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি। তবে আমার বিশ্বাস আছে, এটা আমরা মোকাবিলা করতে পারব।’
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজের পরিকল্পনার কথা আমেরিকান কংগ্রেসের সামনে তুলবেন বলে জানান জো বাইডেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ‘ঐতিহাসিক বিনিয়োগ’ করা প্রয়োজন। ওই বিনিয়োগের মাধ্যমে সড়ক ও সেতুগুলোর আধুনিকায়ন করা হবে। উন্নয়ন করা হবে বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা, পানি ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার।
গত রোববার ঘূর্ণিঝড় ইডা আঘাত হানার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি হয়। এর জের ধরে সৃষ্টি হওয়া বন্যায় দেশটির ছয়টি স্টেটে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিউ জার্সিতে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২৩ জনের। নিউইয়র্কে বন্যায় মারা গেছে ১৬ জন। এ ছাড়া কানেটিকাট, পেনসিলভানিয়া, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ায় মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নিউ জার্সির গভর্নর ফিল মারফি বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের অনেকেই গাড়িতে আটকা পড়েছিলেন। বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা গাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির গভর্নররা সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি ম্যাসাচুসেটস ও রোড আইল্যান্ডে টর্নেডো সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাজিও এই পরিস্থিতিকে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে বন্যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। লুইজিয়ানার কর্তৃপক্ষ বলছে, পানি কমে যাওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে এই সেবা চালু করতে। সেখানকার হাজারো মানুষের বাড়ির বিদ্যুৎ–সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ঝুঁকি এড়াতে। আজ শুক্রবার প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এলাকাটি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।