নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে বৃহস্পতিবার (১২ই ডিসেম্বর) ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ত্রাণবাহী ট্রাকের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা ১২ নিরাপত্তারক্ষীও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গাজায় নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই এই হামলার ঘটনা ঘটলো। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার ইউএনআরডব্লিউএ’র সমর্থনেও আলাদা প্রস্তাব পাস হয়েছে। ইসরাইল আইন করে এই সংগঠনকে তাদের দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

নুসেইরাত গাজার ঐতিহাসিক আটটি শরণার্থী শিবিরের একটি, যেখানে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছিল। বর্তমানে এটি গাজার ঘনবসতিপূর্ণ একটি নগর অঞ্চলের অংশ, যেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছে।

এর আগেও বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর), গাজার দক্ষিণাঞ্চল রাফাহ এবং খান ইউনিসে দুটি ইসরায়েলি হামলায় ১৩ জন নিহত হয়। গাজার চিকিৎসক ও হামাস জানিয়েছে, নিহতরা মানবিক সহায়তা পরিবহনের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হামাসের যোদ্ধা যারা সহায়তা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, এই দুই বিমান হামলা মানবিক সহায়তার নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চালানো হয়েছিল।

গাজায় সহায়তা সরবরাহের সময় সশস্ত্র দলের সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। হামাস জানিয়েছে, তারা এই ধরনের দলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং গত কয়েক মাসে ২০ জনের বেশি এসব দলের সদস্যকে হত্যা করেছে।

হামাসের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় সহায়তা সরবরাহে নিয়োজিত ৭০০ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজা সিটির বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে এ নির্দেশকে আক্রমণের পূর্ব-সতর্কতা বলা হয়েছে।

ইসরায়েলি হামলায় গাজা শহরের আল-জালা স্ট্রিটের একটি আবাসিক ভবন এবং নুসেইরাতের পশ্চিমে একটি বাড়ি ধ্বংস হয়। এতে ২২ জন নিহত হন বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা এবং ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) এক ভোটে যুদ্ধবিরতি এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হাতে বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় গাজায় ৪৪,৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।