আসন্ন রমজানে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানোসহ চারটি দাবিতে যৌথ ভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি এবং ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।

আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান লিখিত এ দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দোকান ব্যবসায়ীদের বেচা বিক্রি হয় সাধারণত মাগরিবের নামাজের পর। সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে বর্তমানে রাত ৮টার পর দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে করে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এই ক্ষতি পোষানোর জন্য ১৫ রমজান পর্যন্ত রাত দশটা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি করা হয়।

এছাড়া রোজার পর থেকেই সাধারণত পোশাকের মার্কেটগুলোতে ঈদের কেনাকাটা বাড়তে থাকে। এজন্য ব্যবসায়ীরা ঈদের আগ পর্যন্ত যতক্ষণ ক্রেতা ততক্ষণ মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি চান সরকারের কাছে।

এছাড়া রোজার মাসে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, দোকান ব্যবসায়ী কোনো পণ্য উৎপাদন বা আমদানি করে না। দোকান ব্যবসায়ীদের পক্ষে সিন্ডিকেট করাও সম্ভব না। সিন্ডিকেট পরিচালনা করে দেশের সর্বোচ্চ ১৫-২০ জন আমদানিকারক, উৎপাদনকারী এবং সুপার বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি বা অভিযান পরিচালিত হলে দ্রব্যমূল্যের বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আমরা মনে করি।

তবে অভিযানের আগে একজন ডিলার, পরিবেশক, পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা কত কেজি পণ্য বা কত পরিমাণ পণ্য মজুদ রাখতে পারবে তার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। যার ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান পরিচালিত হবে বলেও জানান তারা।

দোকান ব্যবসায়ীদের দাবি, ডিলার, পরিবেশক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা পণ্যের ক্রয় মূল্য সরকার নির্ধারিত দামের বেশি হলে বিক্রেতা বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করতে হবে। এছাড়া যেসব খুচরা দোকানি পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙাবে না তাদের বিরুদ্ধে অধিদপ্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে ব্যবসায়ীরা সরকারের পক্ষেই থাকবে। সভাপতি আরিফুর রহমান টিপু পাইকারী ও খুচরা বিক্রয়ের উপর নিট মুনাফার হার ঠিক করে দেওয়ারও দাবি করেন।

তবে বর্তমানে খুচরা দোকানগুলোতে চিনি, ছোলা, ডাল ও দুধের সরবরাহে ঘাটতি আছে দাবি করে ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে কোনো সংকট হচ্ছে কিনা তা সরকারের নজরদারি করা উচিত।