প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রিজার্ভের টাকা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো হচ্ছে। পায়রা সমুদ্র বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন করে তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু ও পায়রা বন্দর নির্মাণ করে সরকার বিশ্বের বুকে নিজেদের সক্ষমতাকে প্রমাণ করেছে। এই বন্দর দেশের আমদানি রফতানি বাণিজ্যে গতি আনবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে পায়রা সমুদ্র বন্দরের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রকল্পগুলো মধ্যে রয়েছে বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিং, প্রথম টার্মিনাল এবং আটটি জাহাজের উদ্বোধন, ছয় লেনের সংযোগ সড়ক এবং আন্ধারমানিক নদীর উপর সেতু নির্মাণ। ক্যাপিটাল ড্রেজিং করার ফলে বন্দরে ৪০ হাজারটন কার্গো বা ৩ হাজার কনটেইনার বোঝাই জাহাজ ভেড়ার সক্ষমতা তৈরি হবে। এছাড়া টার্মিনাল হলে এই বন্দরে তিনটি বিদেশি বড় জাহাজ একযোগে ভিড়তে পারবে।

গণভবনে থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, উন্নয়নে সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নানা প্রতিকূলতার পরও পায়রা বন্দর সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থে তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একে গভীর সমুদ্র বন্দরে পরিণত করা হবে। যারা রিজার্ভের টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের কাজেই এই টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।

কোভিড মহামারির রেশ না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এর ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় সারা বিশ্বের মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে আবারও যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কারা লাভবান হচ্ছে জানি না। হয়তো লাভবান হচ্ছেন যারা অস্ত্র ব্যবসা করেন বা অস্ত্র বানান। কিন্তু সারা বিশ্বব্যাপী মানুষগুলো কিন্তু কষ্ট পাচ্ছেন।

সেসব ক্ষমতাধর দেশের উদ্দেশে শেখ হাসিনার আহ্বান— ‘বিশ্ববাসীর কাছে আমার আবেদন থাকবে, এই যুদ্ধটা বন্ধ করতে হবে। স্যাংশন প্রত্যাহার করতে হবে। মানুষকে বাঁচার সুযোগ দিতে হবে, জীবনমান ধরে রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের উন্নত বিশ্বগুলো, যারা এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে যুদ্ধে নেমেছেন, তাদের কাছে আমার এ আবেদনটা থাকল।’