মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ভাষানচরে স্থানান্তর করতে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (সোমবার) সকালে গণভবনে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারি গুয়েন লুইস সৌজন্য সাক্ষাতে এলে এ সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হলেও তারা এখন বাংলাদেশের জন্য বড় ধরণের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই মাদক, অস্ত্র, জঙ্গিবাদ ও মানব পাচারে জড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজারে তারা বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গারা বর্তমানে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘনবসতিপূর্ণ জীবনযাপন করছেন। যেহেতু খুব শিগগির তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নিশ্চয়তা নেই, তাই আরো উন্নত জীবনের জন্য তাদের ভাষানচরে স্থানান্তর করা উচিত।

জাতিসংঘ এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে। ভাষানচরের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গুয়েন লুইসের কাছে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে সহযোগিতার জন্য জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ এ সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এমডিজি’র লক্ষ্য অর্জন ও এসডিজি অর্জনে কাজ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ অতীতেও বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে থাকবে।’

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেস্টনি ও জলবায়ু সহিষ্ণু আবাসন নির্মাণ করছে। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে ‘ক্লাইমেট ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার কোভিড-১৯ মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে উদ্ভুত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসডিজি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, বৃত্তি, বিনামূল্যে পাঠ্য বই বিতরণ এবং স্কুল ফিডিং ব্যবস্থা চালু করেছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী একজন মানুষকেও জমি ও গৃহহীন না রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সরকার প্রত্যেক ভূমিহীন ও গৃহহীনকে বিনামূল্যে বাড়ি দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।