আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেট সিরিজ হারলো বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় একদিনের ক্রিকেট খেলায় টাইগারদের পরাজয় ১৪২ রানে। আর তাতে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তিন ম্যাচের সিরিজ স্বাগতিকরা।

শনিবার টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল বাংলাদেশ। রান তাড়া করে জেতাকেই প্রাধান্য দেন লিটন দাস। কিন্তু রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান উদ্বোধনী জুটিতে করেন  ২৫৬ রান। দুজনেই সেঞ্চুরি করেন। শেষ দিকে বাংলাদেশ বল হাতে প্রত্যাবর্তন করেছিল। কিন্তু গুরবাজ ও ইব্রাহিম যে ভিত গড়ে দেন, তা আফগানিস্তানকে টলাতে পারেনি। শেষ ৭৫ রান করে তারা ৯ উইকেটের বিনিময়ে। তাদের স্কোরবোর্ডে যুক্ত হয় ৩৩১ রান! জবাবে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে মুশফিকুর রহিমের ফিফটির পরও ৪৩.২ ওভারে মাত্র ১৮৯ রানেই থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস। ফলে ১৪২ রানে লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করে বাংলাদেশ।

শনিবার (৮ জুলাই) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লিটন দাস। তবে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে দেন আফগান দলের দুই ওপেনার গুরবাজ ও ইব্রাহিম। দুজনে মিলে উদ্বোধনী জুটিতে গড়েন ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৬ রান।

গুরবাজকে ফিরিয়ে আফগান শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। এই উইকেট তুলে নিয়ে দেশের মাটিতে তিন ফরম্যাটে চার’শ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন টাইগার পোস্টারবয়। তার এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ১২৫ বলে ৮ চার ও ৬ ছক্কায় ১৪৫ রান করেন আফগান উইকেটকিপার ওপেনার।

এরপর দ্রুত আরেকটি উইকেট তুলে নেন পেসার এবাদত হোসেন। ডানহাতি এই পেসারের বলে ফিজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রহমত শাহ (২)। এরপর দ্রুতই জোড়া শিকার করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন মিরাজ। আফগান অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শহীদিকে (২) ক্লিন বোল্ড করে বিদায়ের পর হার্ডহিটার নাজিবুল্লাহ জাদরানকে (১০) লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার।

খানিকের মধ্যেই বিপর্যস্ত আফগান শিবিরে একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন ইব্রাহিম। কিন্তু সেঞ্চুরির পর পরই বিদায় নেন ইব্রাহিম। মোস্তাফিজের বলে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ১১৯ বলে ১০০ রানের ইনিংস। এরপর মোহাম্মদ নবীর ১৫ বলে ২৫ রানের ক্যামিও ইনিংসে নির্ধারিত সময়ে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রান সংগ্রহ করে আফগানরা।

বোলিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজ, হাসান মাহমুদ, সাকিব ও মিরাজ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট পান। এছাড়া ১টি উইকেট নেন তাসকিনের বদলে একাদশে সুযোগ পাওয়া এবাদত।

ওয়ানডেতে এর আগে সর্বোচ্চ ৩২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। ফলে আফগানিস্তানের দেওয়া ৩৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিততে হলে রেকর্ডই গড়তে হতো টাইগারদের। কিন্তু ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় স্বাগতিকরা।

লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারে মুজিব উর রহমানকে জোড়া বাউন্ডারি মেরে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লিটন। কিন্তু দলীয় ১৫ রানের মাথায় পঞ্চম ওভারে পেসার ফজল হক ফারুকির বলে মোহাম্মদ নবীর হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ১৫ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৩ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

এরপর ওয়ান ডাউনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তও আশা দেখাতে পারেননি। গেল কয়েক সিরিজে ধারাবাহিক ফর্মে থাকা শান্ত আফগান স্পিনার মুজিবের রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। নামের পাশে ৫ বলে মাত্র ১ রান নিয়ে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

বিশ্বকাপে ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে নেওয়ার জন্য নাঈমকে সুযোগ দিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে তিনি সেই সুযোগ কাজেই লাগাতে পারেননি। দলীয় ২৫ রানের মাথায় ফারুকির বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। বিদায়ের আগে ২১ বলে ৯ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

এরপর চতুর্থ উইকেটে শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছিলেন সাকিব-হৃদয়। দুজনে মিলে দেখেশুনে ব্যাটিং করে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি হৃদয়। দলীয় ৬৫ রানের মাথায় আফগান স্পিন বিস্ময় রশিদ খানের বল সোজা গিয়ে আঘাত হানে স্ট্যাম্পে।

সঙ্গী হারিয়ে সাকিবও আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। উইকেটে থিতু হয়েও ২৯ বলে ২৫ রান করে আউট হন সাকিব। এরপর উইকেটে এসে গোল্ডেন ডাক মারেন আফিফ হোসেন। রশিদের গুগলিতে রীতিমতো চোখে সর্ষে ফুল দেখেছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। তার বিদায়ে মাত্র ৭২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানকে অপেক্ষায় রেখেছিলেন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ জুটি। সপ্তম উইকেটে তাদের দুজনের ৮৭ রানের জুটিতে পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে টাইগাররা। মিরাজ ৪৮ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলার পর মুশির আউটেই শেষ হল বাংলাদেশের ইনিংস। ৬৯ রান করে ফজলহক ফারুকির শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ তুলেছেন তিনি।

বোলিংয়ের সময় চোট পেয়ে উঠে যাওয়া ইবাদত হোসেন নামতে না পারায় ৯ উইকেট পড়ার পর সেখানেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ১৮৯ রানেই। ১৪২ রানের হারে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হারল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের কাছে বাংলাদেশের রানের হিসাবে এটি সবচেয়ে বড় হার। আফগানদের কাছে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজও হারল বাংলাদেশ।