উজানের ঢল ও দুদিনের টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ইতোমধ্যে পানির চাপ কমাতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল ৫২ দশমিক ১৭ মিটার (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার) যা বিপৎসীমার ২ সে.মি. উপরে প্রবাহ রেকর্ড করা হয়। কাউনিয়া পয়েন্টে পানির সমতল ২৯ দশমিক ৬০ মিটার (বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার) যা বিপৎসীমার ২৯ সে.মি. উপরে প্রবাহ রেকর্ড করা হয়। এছাড়াও ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে পানি সমতল ৩০ দশমিক ২০ মিটার (বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার) যা বিপৎসীমার ৬৭ সে.মি. নিচে প্রবাহ রেকর্ড করা হয়। পরে সকাল নয়টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সে.মি. নিচে ও কাউনিয়া পয়েন্টে ৩১ সে.মি. উপরে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়।
এর ফলে জেলার পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। নিম্নাঞ্চলে ইতিমধ্যে পানি ঢুকে গেছে। চরাঞ্চলেও পানিতে ডুবেছে বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট।
তিস্তার নদীর পানি বৃদ্ধিতে জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া,হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোবর্ধন, বাহাদুরপাড়া, কালমাটি, পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর, খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, বড়বাড়ি, রাজপুর,গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ ইতিমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবেছে চলাচলের রাস্তা।
গবাদি পশুপাখি নিয়ে বন্যার্তরা উচু স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকেই উচু স্থানে চুলা জ্বালিয়ে রান্নার কাজ সারছেন। গতকাল থেকে পানি তোড়ে আসায় নতুন নতুন এলাকায় এখনো পানি প্রবেশ করছে। নলকুপ, টয়লেটে পানি উঠায় বিশুদ্ধ পানি সংকট ও স্যানিটেশন সমস্যায় পড়ছেন তারা।
বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র ও চরবাসী জানায়, উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে তিস্তার পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, রোববার সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বেড়ে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তাপাড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বলেন, কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী খুব দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাঁধ বা সড়ক ভেঙে নতুন এলাকা যাতে প্লাবিত না হয়, সেটা নজরদারি করে ইতোমধ্যে জিও ব্যাগ দিয়ে তা রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। বন্যা মোকাবেলা করতে জেলা, উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।