বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে ‘গার্মেন্টস এক্সেসরিজ’ পণ্য অর্ডার করে তা হাতে পাওয়ার পর টাকা পরিশোধ না করেই অনত্র বিক্রি করে দিতেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রতারণার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস থেকে একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এ এ এম সালাউদ্দিন ভূঁইয়া নামের ওই ব্যক্তি নিজেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল হিসেবে পরিচয় দিতেন।
অভিযানে তার কাছ থেকে সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরিহিত বাঁধাই করা একটি ফটো ফ্রেম, সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত একটি গেঞ্জি, ক্যাপ, মানিব্যাগ ও মেডেল, চারটি জাল লেটার প্যাড, একটি জাল সিল, দুইটি জাল ক্রয়াদেশ, দুইটি জাল সোয়াচ প্যাড, দুইটি চেক বই, তিনটি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন কন্টেন্ট এবং নগদ প্রায় ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
জানা যায়, একসময় মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন সালাউদ্দিন। পরে প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির ভবনে অফিস কক্ষ ভাড়া নিয়ে নিজেকে ওই কোম্পানির মালিক পরিচয় দিতেন তিনি। রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন গার্মেন্টস এক্সেসরিজ কোম্পানির কাছ থেকে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ-আত্মসাৎ করেছেন এই সালাউদ্দিন।
র্যাব মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতারক সালাউদ্দিন ভূঁইয়া নিজেকে বিভিন্ন কোম্পানির সিইও, মার্কেটিং ম্যানেজার বা মার্চেন্ডাইজার পরিচয় দিতেন। তিনি বিভিন্ন গার্মেন্টস কোম্পানির কাছ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ের আবেদন করতেন। পরে ভূয়া ক্রয়াদেশ পেয়ে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ কোম্পানিগুলোর ক্রয়াদেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ পণ্য ডেলিভারি করতেন। সালাউদ্দিন পণ্য ডেলিভারি পাওয়ার পর তাদের টাকা পরিশোধ না করে পণ্যগুলো বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিতেন। ভুক্তভোগীরা তার কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে, ফেরত না দিয়ে খারাপ আচরণ করতেন। এছাড়া নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আবার কখনও আইজিপির আত্মীয় বা সংসদ সদস্যের নিকট আত্মীয় পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন।’
তিনি বলেন, ‘গত ৫ ফেব্রুয়ারি একজন ভুক্তভোগীসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান র্যাবের কাছে অভিযোগ দেয়। পরে র্যাব ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরপরই রাজধানীর মহাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক এ এম এম সালাউদ্দিন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে।’
গ্রেফতার সালাউদ্দিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে তিনি কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে মহাখালীতে একটি অফিস সাবলেট নিয়ে বিগত তিন মাস এই অপরাধ করে আসছেন। কোনও ঠিকানায় তিনি ছয় মাসের বেশি অবস্থান করেন না তিনি। তাছাড়া ফটোশপের মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি এডিট করে প্রতারণার কাজে ব্যবহার করেন। তার নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে।