সর্বজনীন পেনশন স্কিম (প্রত্যয়) ঘোষণার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, অর্ধদিবস কর্মবিরতির মতো কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। কিন্তু শিক্ষকদের দাবি উপেক্ষা করে সোমবার থেকে ‘প্রত্যয় স্কিম’ চালু করেছে সরকার।

নতুন পেনশন ব্যবস্থা প্রত্যাহার, শিক্ষকদের বেতনে সুপার গ্রেড প্রদান ও স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দাবিতে এ দিন থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেছে দেশের ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।   টানা তিনদিন বন্ধ সকল ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা এবং অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। ভোগান্তিতে পড়লেও শিক্ষকদের আন্দোলনকে যৌক্তিক বলছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে অচলাবস্থার দ্রুত সমাধান চান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ, সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামসহ সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ থাকে লাইব্রেরিও। ফলে অচলাবস্থায় পড়েছে দেশের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে চরম ভোগান্তির শিক্ষার শিক্ষার্থীরা। তারা সেশনজটের আশঙ্কা করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে বুধবার তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষকসহ শিক্ষক সমিতির নেতারা। পেনশন ইস্যুতে শিক্ষকদের আন্দোলন অযৌক্তিক, অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানান তারা।

দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করছে শিক্ষক এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। বৈষম্যমূলক পে-স্কেল ও পেনশন স্কিম বাতিলের দাবি জানান তারা।

নতুন পেনশন স্কিমের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। যোগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতিও। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান শিক্ষক নেতারা।

একই দাবিতে খুলনার তিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। অবিলম্বে দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা।