ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপ ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য বন্ধ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আইআরজিসি জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার ইরানের রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী ‘কেউ পার করার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে’- ইরানের তরফে সোমবার এই ঘোষণা আসার পর থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের এই রুটটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপ ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য বন্ধ থাকবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপীয় জোট এবং তাদের মিত্রদেগুলোর সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে না। যেকোনো মার্কিন, ইসরায়েলি বা ইউরোপীয় জাহাজ শনাক্ত করা হলে অবশ্যই আঘাত করা হবে।

সংস্থাটি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপ এবং তাদের সমর্থক দেশগুলোর কোনো জাহাজ ওই এলাকায় দেখা গেলে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার শঙ্কা থাকে।

ইরানের জেনারেল কিওমারস হায়দারি বলেছেন, ইরান তাদের লক্ষ্য অর্জন না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর আঘাত না দেওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ থেকে সরে আসবে না।

খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের উপ-কমান্ডার হায়দারি বলেছেন, ‘এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তা আমাদের কাছে কোনো বিষয় নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আট বছরের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, এবং আমরা এই যুদ্ধ শেষ করব তখনই, যখন আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে এবং শত্রুকে তার লজ্জাজনক কাজের জন্য অনুতপ্ত ও হতাশ করা যাবে।’