ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে সুপার ওভারে নাটকীয়তার পর হেরে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইরা দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিলে শেষ ম্যাচটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল অলিখিত ফাইনাল। তবে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শেষ হাসিটা হাসল টম ল্যাথামের দল।
শনিবার (৮ এপ্রিল) কুইন্সটাউনের জন ডেভিস ওভাল স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় শ্রীলঙ্কা। কোনো উইকেট না হারিয়ে পাওয়ারপ্লেতে ৪৮ রান করে সফরকারীরা। তবে ২৫ বলে ২৫ রান করে ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ফিরলে প্রথম সাফল্যের দেখা পায় কিউইরা।
দ্বিতীয় উইকেটে কুশল মেন্ডিস এবং কুশল পেরেরা বেশ দারুণ জুটি গড়েন। তাদের ৪৬ রানের ঝোড়ো জুটিতে দলের সংগ্রহ একশো ছাড়িয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায়। তবে ৪৮ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মেন্ডিস। এরপর ব্যক্তিগত ৩৩ রান করে পেরেরা ফিরলে রানের গতি কিছুটা কমে যায়।
এরপর ধনঞ্জয়া ডি সিলভার ব্যাট থেকে আসে ২০ রান। শেষদিকে অধিনায়ক দাসুন শানাকার ১৫ রানে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। বোলিংয়ে বেন লিস্টার ২ টি এবং মিলনে ও সোদি নেন ১টি করে উইকেট।
১৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পায় নিউজিল্যান্ডও। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে একট উইকেট হারালেও ৫৮ রান করেন স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে টম লাথাম এবং টিম সাইফার্ট মিলে ঝড়ের গতিতে রান তুলেন। তবে ২৩ বলে ৩১ রান করে বিদায় নেন ল্যাথাম। এতে দুজনের ৮৪ রানের জুটিও ভেঙে যায়।
এরপর শেষ চার ওভারে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ২৯ রান, হাতে ৮ ছিল উইকেট। কিন্তু ৮৮ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে সাইফার্টের বিদায়ের পর খানিকটা চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ফলে শেষ ওভারে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় দশ রান। এমন সমীকরণ নিয়ে প্রথম বলেই ছক্কা খেয়ে বসেন লাহিরু কুমারা।
তবে ৬ খাওয়ার পরেও ঘুরে দাঁড়ান তিনি। পরের তিন বলে টানা তিন উইকেট নিয়ে লড়াইও জমিয়ে তোলে লঙ্কানরা। তবে কিছুটা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লেও এক বল হাতে রেখে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন রাচিন রবীন্দ্র এবং অ্যাডাম মিলনে।