আশুলিয়ায় অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও এর মধ্যে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশের একটি সূত্র।

বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বার্ডস গ্রুপের শ্রমিকরা। এছাড়া শিল্পাঞ্চলে আজ ১৪টি বাদে বাকি কারখানাগুলো চালু রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই খোলা কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের যথাসময়ে কাজে যোগ দিতে দেখা যায়।

শিল্পপুলিশ জানায়, বিভিন্ন কারখানার অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে আজ শিল্পাঞ্চলে ১৩(১) ধারায় বন্ধ রয়েছে ৭টি কারখানা এবং আরও ৭টি কারখানায় সাধারণ ছুটি রয়েছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বার্ডস গ্রুপের শ্রমিকরা এখনো সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। তারা বলছেন, তাদের পাওনা পরিশোধ না করা হলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করবে না। মালিকপক্ষের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগাযোগ করছেন।

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। ছবি: স্টার

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিল্প পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, শিল্পাঞ্চলের কাঠগড়া এলাকায় এআর জিন্স প্রডিউসার লিমিটেড ছাড়া সব কারখানা চালু রয়েছে। এআর জিন্স প্রডিউসার লিমিটেড সবেতন ছুটি দিয়েছে। টঙ্গাবাড়ি এলাকায় ম্যাংগো টেক্স লিমিটেড সবেতন ছুটিতে রয়েছে। ওই অঞ্চলের মন্ডল নিটওয়্যার, ন্যাচারাল ডেনিম, ন্যাচারাল ইন্ডিগোসহ অন্য সব কারখানা চালু রয়েছে। জামগড়া, নরসিংহপুর এলাকায় সেতারা অ্যাপারেলস বন্ধ আছে। বাকি সব কারখানা খোলা রয়েছে। অন্যদিকে বাইপাইল এলাকায় স্কাইলাইন কারখানা সবেতনে ছুটি রয়েছে তবে চালু আছে অন্য সব কারখানা।

আর্থিক সংকট ও কার্যাদেশ না থাকার কথা উল্লেখ করে ২৮ আগস্ট থেকে বার্ডস গ্রুপের আর এন আর ফ্যাশনস লি., বার্ডস গার্মেন্টস লি., বার্ডস ফেডরেক্স লি. এবং বার্ডস এ এন্ড জেড লি. এর সব সেকশনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, বার্ডস গ্রুপ তাদের কারখানা বন্ধ ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে বিজিএমইএ, শ্রমিকসহ সকল পক্ষের একটি বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল গ্রুপটির শ্রমিকদের যাবতীয় আইনগত পাওনা পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু তারা তা করেনি।