দেশের সংগীত অঙ্গন স্তব্ধ জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদের মৃত্যুতে। ঠিক তখন শোক আরও ঘনীভূত করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সংগীতশিল্পী হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। মঙ্গলবার(৩০ শে জুলাই) বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে শিল্পীর পারিবারিক সূত্র। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই জানিয়েছেন তার মৃত্যুর খবর। সাংবাদিক ও চিত্রনাট্যকার রুম্মান রশীদ খান নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, জুয়েল ভাই ভালো থাকবেন। নাট্যনির্মাতা সকাল আহমেদও গায়কের মৃত্যুর খবর দিয়েছেন ফেসবুকে।
ব্যাংকার বাবার ঘরে জন্ম নেয়া জুয়েল বাবার চাকরিসূত্রে বেড়ে উঠেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে ১৯৮৬ সালে ঢাকায় এসে টিএসসি কেন্দ্রীক সাংস্কৃতিক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর ১৯৯২ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘কুয়াশা প্রহর’ বের হয়। এরপর ‘আমার কাছে অন্ধকার’, একটা মানুষ’, ‘দেখা হবে না’, ‘ফিরতী পথেসহ একে একে ১০টি অ্যালবাম বের হয় এই শিল্পীর। ১০টি অ্যালবামের মধ্যে সাতটিরই সুর করেছেন প্রয়াত আরেক জনপ্রিয় শিল্পী আইয়ূব বাচ্চু।
তবে ‘এক বিকেলে’ অ্যালবামটির মাধ্যমেই তার পরিচিতি বাড়ে। প্রেম আর বিরহ নিয়ে গাওয়া এই অ্যালবামের গানগুলো লুফে নেয় নব্বই দশকের তরুণরা।
গানের পাশাপাশি টেলিভিশনে অনুষ্ঠান প্রযোজনাও করতে জুয়েল। দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে কাজ করেছেন তিনি।
২০১১ সালে শিল্পীর লিভারে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তা ফুসফুসসহ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। দেশ বিদেশে চিকিৎসা চলছিলো জুয়েলের। এরপর গেল ২৩ই জুলাই শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজধানী একটি হাসপাতালে ভর্তি হন জুয়েল। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় আইসিইউ’তে। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চলে যান দূর আকাশে।
তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সঙ্গীত ও বিনোদন অঙ্গনে।