জাতীয় সংসদে আজ শনিবার পাশ হচ্ছে অর্থবিল। আর আগামীকাল রবিবার (৩০শে জুন) পাস হতে যাচ্ছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট। এই বাজেট পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের নতুন অর্থবছর।
আগামীকাল রবিবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পাস হবে এবং ১ জুলাই সোমবার থেকে নততুন বাজেট কার্যকর হবে। নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ থাকবে। বাজেট পাসের দিন এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরতে পারেন। এবারের বাজেটে কর, ভ্যাট ও শুল্কজনিত বিষয়ে বেশকিছু পরিবর্তন এনে অর্থবিল ২০২৪ পাস হবে সংসদে। তবে সেই অর্থে বাজেটে ব্যাপক কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, শনিবার নতুন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট, বাজেটের মঞ্জুরি দাবি এবং দায়যুক্ত ব্যয় নির্দিষ্টকরণ সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা করা হবে।
জানা গেছে, এবারের বাজেটে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হলেও এ প্রস্তাবে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।
এছাড়া বাজেট প্রস্তাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের ওপর ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বসানোর কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী। এতে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আপত্তি থাকলেও তা আমলে নেওয়া হচ্ছে না। সংশোধনী বাজেটে আগের মতোই ৫০ লাখ টাকা লাভের ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এর আগে গত সংসদে গত ৬ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেন। সেখান থেকে দু-একটি বিষয় ছাড়া তেমন কোনো বড় সংশোধনীর সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে। এতে আয়কর ও কাস্টমস সংক্রান্ত সামান্য কিছু পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদের চাপে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কর অবকাশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থাৎ কর অবকাশ সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকছে।
এদিকে, ধারাবাহিকভাবে টানা চারবারের মতো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় বাজেট বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে সাধারণ মানুষের। এ অবস্থায় নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ইতোমধ্যে আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ছয় মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে। তবে বৈশ্বিক সংকটের কারণে বাজেট বাস্তবায়নে বেশকিছু চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।