বেইজিং সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিন আগেই দেশে ফিরে আসছেন। নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও বুধবারই (১০ জুলাই) তিনি ফিরছেন। তবে কী কারণে তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করছেন তা জানা যায়নি।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্ষিপ্ত হওয়ার বিষয়টি জানান। তবে সফর সংক্ষিপ্ত হলেও নির্ধারিত সব কর্মসূচি শেষ করেই সরকারপ্রধান দেশে ফিরছেন বলে জানান মন্ত্রী।
মঙ্গলবার বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন চাইনিজ পিপল’স পলিটিক্যাল কনসাল্টেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াং হুনিং।
এর আগে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেইজিংয়ের সাংগ্রিলা সার্কেলে ‘সামিট অন ট্রেড, বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অপরচুনিটিজ বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড চায়না’ সম্মেলনে যোগ দেন। বাংলাদেশের ৯০ জন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও চীনের শতাধিক ব্যবসায়ী এ সম্মেলনে যোগ দেন। এতে বাংলাদেশ ও চীনের বেশ কয়েকটি কোম্পানির মধ্যে ১৬টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী চীনা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বিশ্বের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থার সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। অবকাঠামো, আইসিটি, পর্যটন, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ জ্বালানি খাত, জলবায়ুসহনশীল স্মার্ট ফার্মিং, বর্জ্যব্যবস্থাপনা, সবুজ প্রযুক্তি ও উন্নয়ন খাতে বৃহত্তর বিনিয়োগের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তিনটি বিশেষ পর্যটন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ও সেখানে চীন রিয়েল এস্টেট এবং হসপিটালিটি খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করলে চীনারাও এ বিষয়ে যথেষ্ট উৎসাহ দেখান। বাংলাদেশ দূতাবাস, বিআইডিএ, বিএসইসি ও চায়না ওয়ার্ল্ড সামিট উইং আয়োজিত এ সম্মেলনে চীনের ভাইস মিনিস্টার অব কমার্স লি ফেই, চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং টং ঝু, এইচএসবিসি চায়নার প্রেসিডেন্ট এবং সিইও মার্ক ওয়াং, হুয়াওয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইমন লিন তাদের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।