জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের অস্বস্তি কাটিয়ে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চায়। ঢাকায় আমেরিকার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সফর সেই বার্তাই দিচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে সামনে আনছে আমেরিকা। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশকে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর আমেরিকার উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার থেকে তিন দিনের ঢাকা সফর করেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিশেষ সহকারী রিয়ার এডমিরাল এলিন লাউবাক। ছিলেন ইউএস এআইডির মাইকেল শিফার এবং উপসহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী আফরিন আক্তার।
সফরকালে তারা সরকারের মন্ত্রী ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার পাশাপাশি, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জানা যায়, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার চিঠিতেও এসব বিষয়ে প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত করেন। এগুলো নির্বাচন নিয়ে মতভেদ কাটিয়ে বাংলাদেশের সংগে সম্পর্ক উন্নয়নে আমেরিকার আগ্রহের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলসহ ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষিতে সম্পর্কের ব্যাপকতা বাড়ানোর আভাস দিচ্ছে আমেরিকা।
তবে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমেরিকার সংগে বহুমাত্রিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক দক্ষতা দেখাতে হবে বলে মনে করেন সাবেক কূটনীতিকরা।