একের পর এক ব্যর্থতায় সরকারের ক্ষমতা ছাড়ার সময় শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া আগামীতে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তারা। আজ শনিবার (২২শে অক্টোবর) খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশে অংশ নিয়ে এসব বলেন বিএনপি নেতারা।
বাস-লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার পরও খুলনায় বিএনপি’র বিভাগীয় গণসমাবেশে যোগ দিয়েছে দলটির হাজারো নেতাকর্মী। দুপুরের পর সমাবেশ শুরু হবার কথা থাকলেও শনিবার (২২শে অক্টোবর) সকালেই হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে ভরে যায় খুলনার সোনালী ব্যাংক চত্বরে বিএনপি’র সভাস্থল। দু’দিন ধরে বাস-লঞ্চ বন্ধ থাকায় ট্রাক-পিকআপ ভ্যানে চড়ে সমাবেশে যোগ দেন খুলনা ও আশপাশের এলাকার বিএনপি’র বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কর্মী, সমর্থকরা।
ব্যানার-ফেস্টুন আর মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে গণসমাবেশ। দলীয় ও গণসঙ্গীতের মাধ্যমে কর্মীদের উজ্জীবিত রাখে জাসাসের শিল্পীরা। জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও পাঁচ নেতাকর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদ এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি সব বিভাগে ধারাবাহিক সমাবেশ করছে। খুলনার সমাবেশে বিএনপি নেতারা বলেন, ভয় পেয়ে সমাবেশ বানচালে উস্কানি দিচ্ছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে। তদন্ত কমিশন গঠন করে সব দুর্নীতিবাজকে খুঁজে বের করে উৎখাত করা হবে।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগের চিহ্ন থাকবে না। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে শেখ হাসিনার সরকার নতুন করে ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা শুরু করেছে। কিন্তু এই দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। হাসিনা সরকারকে পদত্যাগ করতেই হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, হাসিনা সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা জানগণকে বঞ্চিত করে বিনা ভোটে ক্ষামতায় টিকে থাকতে চায়। তাই তার অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। হাসিনা সরকারকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।
নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারদের মুক্তির দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অন্যথায় সোজা কথায় বলছি, আপনারাও পালানোর পথ পাবেন না। এই জনগণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আপনাদের উৎখাত করবে।
খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার, জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে দলীয় নেতাকর্মী নিহত, হামলা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে গণসমাবেশের অংশ হিসেবে খুলনায় বিএনপির এ বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।