অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১১ই মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন।

অস্ত্র, মাদক ও অর্থপাচারের মামলার পর অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাতেও জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সম্রাটের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।তিনি বলেন, আমার জানামতে সম্রাটের বিরুদ্ধে চারটি মামলা চলমান রয়েছে। মানিলন্ডারিং, অস্ত্র ও মাদক এই তিনটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। এবার দুদকের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এই মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকল না।

তিনি বলেন, তিন শর্তে দুদুকের মামলায় সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। অসুস্থতা বিবেচনায়, বিদেশে না যাওয়া ও প্রতিটি ধার্য তারিখে হাজিরার শর্তে।

দুদকের পক্ষে মামলার শুনানি করেন মোশাররফ হোসেন কাজল। এদিন সকালে সম্রাটকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর জামিন শুনানি শেষে তাকে আবারও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আজ দুদকের মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। সম্রাটের আইনজীবী অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানো ও তার জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তিন শর্তে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় ৯ জুন পর্যন্ত সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেন।

শর্তসমূহ হলো-আদালতের অনুমতি ব্যতীত দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না সম্রাট, পার্সপোর্ট জমা দিতে হবে এবং স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার প্রতিবেদন আগামী ধার্য তারিখে জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১২ই নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম এদিন দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দুদকের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।ক্যাসিনো কাণ্ডে ২০১৯ সালের ৭ই অক্টোবর সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।