আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিভিন্ন পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রতীক (ধানের শীষ) ছিল না, কিন্তু ঘোমটা পরে সব খানেই তাদের প্রার্থী ছিল। এই ঘোমটা পরা প্রার্থী কিন্তু সিটি নির্বাচনেও থাকবে। সিলেটের বর্তমান মেয়র আরিফ অলরেডি ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যান্য সিটিতেও ঘোমটাপরা তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ মুজিবনগর সরকার দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরসহ পাঁচ জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।

কাদের বলেন, সিটি নির্বাচনে আমরা তাদের (বিএনপিকে) আমন্ত্রণ করছি না। নির্বাচন অংশগ্রহণ করা তাদের অধিকার। জাতীয় নির্বাচন যেমন, সিটি নির্বাচনও তেমন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধী, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী, এই অপশক্তির কালো ছায়া এখনও রয়ে গেছে। এই অপশক্তি যে বিষবৃক্ষের জন্ম দিয়েছে, এই বিষবৃক্ষের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন, সংগ্রাম ও লড়াই অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ বছরে দেশে মুক্তিযুদ্ধের ধারা অব্যাহত থাকার কারণে দেশের উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ ধারা বজায় থাকলে যেটুকু উন্নয়ন অসম্পূর্ণ আছে, সেটা সম্পূর্ণ হবে।

মন্ত্রী বলেন, একটি মহল রাজনীতিতে বিএনপির নেতৃত্বে এখনও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে অস্বীকার করে। ৭ই মার্চ তারা স্বীকারও করে না, পালনও করে না। স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ৭ই জুন তারা স্বীকারও করে না, পালনও করে না। তারা নাকি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী! জিয়াউর রহমান যে ধারা শুরু করে দিয়েছিল বিএনপি তা অব্যাহত রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তারা ধারণ করে না। এটা বাংলাদেশে প্রমাণিত সত্য।

বিএনপির সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাকে রাজনৈতিক ভণ্ডামি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে বলেছিল আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না। পরে দেখা গেল বিএনপিই ৩০ আসন পেয়েছে। জনমত বিগড়ে যাচ্ছে। বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আপনাদের অঙ্গন মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ও দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।