চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যাত্রীবাহি একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে ৫ জন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে আরও ২০ যাত্রী। রোববার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পন্থিছিলা বটতল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ৫ জনের মধ্যে কামাল (৪০) ও শাহ আলম (৫০) নামে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অন্য তিনজনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি হাইওয়ে পুলিশ।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এরপর খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে চার জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আহত ১৬ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে আরেকজনের মৃত্যু হয়।’
দূর্ঘটনা কবলিত বাসের আহত যাত্রী জানায়, তিনি বারৈয়ারহাট থেকে এই সিডিএম পরিবহন বাসটিতে উঠেছেন বিকাল সোয়া ৫ টায়। সীতাকুণ্ডের বটতল নামক স্হানে আসার পর বাসটি একটি ড্রাম ট্রাকের পিছনে ধাক্কা খেলে মূহুর্তের মধ্যে বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। বাসের যাত্রীরা রাস্তায় ছিটকে পড়ে। যাত্রীদের মধ্যে কারো হাত নেই, কারো পা নেই, বেশীর ভাগ যাত্রীর মাথায় আঘাতে সারা শরীর লাল রক্তাক্ত হয়ে যায়। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশু ও রয়েছে। স্হানীয়া এগিয়ে আসে কিছুক্ষণ পর সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ী ও পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড হাসপাতালে পৌঁছে দেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, অন্তত ১৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
কুমিরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির রাব্বানি বলেন, বাসচালক ট্রাকটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন দিক থেকে ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয় এবং ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান।
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহগুলো নিহতদের পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে।’












