বিশ্বের সবচেয়ে জমকালো আয়োজনে হলো বিরাট বিতর্ক। অস্কার মঞ্চে সপাটে চড় কষলেন অভিনেতা উইল স্মিথ। যুক্তরাষ্ট্রের হলিউডের ডলবি থিয়েটারে জাঁকালো আয়োজনে চলছে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ৯৪তম আসর। সেখানেই ঘটনাটা ঘটে।

মঞ্চে উঠে অভিনেতা ক্রিস রকের গালে কসে থাপ্পড় মারলেন উইল স্মিথ। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক সবাই। কিন্তু কী ঘটেছিল ওই মুহূর্তে?

ভিডিওটিতে দেখা যায়, উপস্থিত অতিথিদের নিয়ে ঠাট্টা করছিলেন ক্রিস রক। একে একে সবার কথা বলতে বলতে তিনি চলে যান উইল স্মিথের স্ত্রী জাডা পিঙ্কেট প্রসঙ্গে। ক্রিস বলেন, ‘‘পরের ‘জি আই জেন’ ছবিতে অভিনয় করবেন জাডা।’’

‘জি আই জেন’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ডেমি মুর। সেই ছবিতে তার মাথায় চুল ছিল না। ঘটনাচক্রে জাডার মাথাতেও চুল নেই। কিন্তু সেটি স্টাইলের কারণে নয়। তিনি অ্যালোপেশিয়ায় আক্রান্ত। সেই কারণেই তার চুল নেই।

এই রসিকতায় তীব্র রেগে যান উইল স্মিথ। মঞ্চে উঠে তিনি চড় মারেন ক্রিস রককে। যদিও অনেকে প্রথমে ভেবেছিলেন, এটি আগে থেকে ঠিক করে রাখা ঘটনা। কিন্তু পরে দেখা যায়, এই ঘটনায় উইল সত্যিই রেগে গিয়েছেন। এবং তিনি গালিগালাজ করে বলেন, তার স্ত্রীকে এসব থেকে দূরে রাখতে।

আকস্মিক ঘটনার পর ক্রিস রক বলেন, ‘‘বন্ধু, এটা ‘জি. আই. জেন’ কৌতুক ছিল।’’ তখন দ্বিতীয়বার উইল স্মিথ বলেন, ‘তোমার মুখে আমার স্ত্রীর নাম নেবে না।’ এবার ক্রিস রক বলেন, ‘ঠিক আছে নেবো না। এটা টেলিভিশন ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় রাত।’

এটাই প্রথম নয়, ২০১৬ সালের অস্কারেও জাডা পিঙ্কেট স্মিথকে নিয়ে রসিকতা করেছিলেন ক্রিস রক। অস্কারে শ্বেতাঙ্গদের প্রাধান্য দেওয়ায় জাডা পিঙ্কেট স্মিথ অনুষ্ঠানটি বর্জন করেন। এ প্রসঙ্গে ক্রিস রক ঠাট্টার সুরে বলেছিলেন, ‘আসল কথা হলো সে আমন্ত্রণই পায়নি!’

অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ৯৪তম আসরে সেরা অভিনেতা শাখায় উইল স্মিথের জয় একরকম অবধারিত ছিল। ‘কিং রিচার্ড’ ছবির সুবাদে ৫৩ বছর বয়সী এই তারকা এর আগে বাফটা, গোল্ডেন গ্লোবস, ক্রিটিকস চয়েস মুভি অ্যাওয়ার্ডস এবং স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডস জিতেছেন। ভেনাস ও সেরেনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো তৈরি করতে রিচার্ড উইলিয়ামসের দৃঢ়সঙ্কল্প তুলে ধরা হয়েছে ছবিটিতে।

অস্কার ট্রফি হাতে নেওয়ার পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে উইল স্মিথের চোখে নেমে আসে আনন্দ অশ্রু। ক্রিস রককে থাপ্পড় মারায় অস্কারের আয়োজক ও মনোনীতদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

সেরা অভিনেতা শাখায় উইল স্মিথের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হাভিয়ার বারদেম (বিইং দ্য রিকার্ডোস), বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ (দ্য পাওয়ার অব দ্য ডগ), গোল্ডেন গ্লোব জয়ী অ্যান্ড্রু গারফিল্ড (টিক, টিক…বুম!) এবং ডেনজেল ওয়াশিংটন (দ্য ট্র্যাজেডি অব লেডি ম্যাকবেথ)। তবে তাদের সবাইকে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে।

তামাম দুনিয়ার চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের (অস্কার) ৯৪তম আসরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন তারকারা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলসে হলিউড অ্যান্ড হাইল্যান্ড সেন্টারের ডলবি থিয়েটারে ২৭ মার্চ রাতে (বাংলাদেশ সময় ২৮ মার্চ সকাল ৭টা) শুরু হয় এই আয়োজন। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক আমেরিকান তিন অভিনেত্রী রেজিনা হল, অ্যামি শুমার এবং ওয়ান্ডা সাইকস। এবারই প্রথম অস্কার মঞ্চে সঞ্চালনার দায়িত্বে তিন জন নারী।

হলিউডে ২০২১ সালের সেরা কাজগুলোকে সম্মান জানানো হচ্ছে এবারের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে। ৯৪তম অস্কারে ২৩টি শাখায় পুরস্কার প্রদান করেছেন অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। সংস্থাটির সব ভোটার মিলে বিজয়ীদের নির্বাচন করেছেন।

স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেটেড ছবি, স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, চলচ্চিত্র সম্পাদনা, রূপসজ্জা ও চুলসজ্জা, মৌলিক আবহ সংগীত, শিল্প নির্দেশনা এবং শব্দ শাখার পুরস্কার বিতরণ করা হয় মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে। আটটি শাখায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন অভিনেতা জশ ব্রোলিন ও জেসন মোমোয়া।

ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির মালিকানাধীন এবিসি টেলিভিশন বাংলাদেশসহ ২০০টিরও বেশি দেশে সরাসরি সম্প্রচার করছে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের জমকালো মহাযজ্ঞ। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক টিভি সেটের সামনে বসে উপভোগ করছেন অনুষ্ঠানটি। এছাড়া অস্কারের দুটি ওয়েবসাইট, দ্য অ্যাকাডেমি নামের ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং ইউটিউবে অস্কারস নামের চ্যানেলে উপভোগ করা যাচ্ছে গোটা আয়োজন।

মূল আয়োজন শুরুর আগে ৯০০ ফুট দীর্ঘ লালগালিচায় জৌলুস ছড়িয়েছেন তারকারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন আমেরিকান অভিনেত্রী ভ্যানেসা হাজেন্স, অভিনেতা টেরেন্স জে এবং ফ্যাশন ডিজাইনার ব্র্যান্ডন ম্যাক্সওয়েল।