দেশের প্রতিটি নাগরিকের উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সারা দেশে দ্রুত ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার (৪মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। ই-হেলথ কার্ড হলো একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র, যেখানে একজন রোগীর চিকিৎসার যাবতীয় ইতিহাস সংরক্ষিত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের হাসপাতাল থেকে একজন রোগী সহজেই তার আগের প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং রোগের বিবরণ ডাক্তারকে দেখাতে পারবেন। এতে করে বারবার পুরনো রিপোর্ট বহন করার ঝামেলা দূর হবে এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, “প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশ্বমানের করতে হবে।”
তিনি বিশেষ করে গ্রাম পর্যায়ের মানুষের জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগকে যৌথভাবে এই স্মার্ট কার্ড তৈরির কাজ ত্বরান্বিত করতে বলা হয়েছে।
এই কার্ড চালু হলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ব্যাপক উপকৃত হবে। সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমবে এবং ডাটাবেজে তথ্য থাকায় ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে। এছাড়া কার্ডের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্য বীমা ও সহায়তার সুবিধাও সরাসরি পাওয়া যেতে পারে।
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এই ডিজিটাল রূপান্তর একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই মহতী উদ্যোগের ফলে ২০২৬ সালের মধ্যেই দেশের স্বাস্থ্য খাতের চেহারা আমূল বদলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।












