ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আরটি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেছেন, ‘আমাদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের পর’ জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেয়া হবে।
ছড়িয়ে পড়া সংঘাত প্রসঙ্গে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান ‘যুদ্ধ, আলোচনার পর্ব, যুদ্ধবিরতি—এমন এক দুষ্টচক্র’ সহ্য করবে না। খবর বিবিসি’র।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, তারা এই প্রণালিতে একটি ‘নিরাপদ রুট’ তৈরি করেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন অংশে মার্কিন আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতার কথা বিবেচনা করলে, পণ্য ও সামগ্রী পরিবহনের জন্য এই করিডোরটিই এখন একমাত্র কার্যকর পথ।’
তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি পক্ষ এবং ব্যক্তিগতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালানো ‘অপপ্রচার’ উপেক্ষা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে এবং তা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।’
এদিকে, বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরামর্শ দিয়েছেন যে, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির তেল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল, তাদের উচিত হবে সাহস করে তা দখল করে নেওয়া। বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই জলপথটি “স্বাভাবিকভাবেই খুলে যেতে পারে।’
অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের পার্লামেন্টে একটি ‘নতুন নীতিমালা’ অনুমোদিত হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে ইরান ফি আদায় করবে।
শিপিং বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘লয়েডস লিস্ট’ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে একটি জাহাজ যাতায়াতের জন্য ২০ লাখ ডলার ফি পরিশোধ করেছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এবং ট্রাফিক স্বাভাবিক হলে ইরান বছরে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে সক্ষম হবে।











